বিশ্বমানে উন্নীত হচ্ছে সৈয়দপুর ও কক্সবাজার বিমানবন্দর

0
67

অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর হিসেবে বর্তমানে ব্যবহৃত সৈয়দপুর ও কক্সবাজার বিমানবন্দরের মান উন্নয়ন করে শিগগিরই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নীত করা হবে। ইতোমধ্যে বিমানবন্দর দুটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তর করতে ফিজিবল স্টাডির কাজ শুরু করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। ফিজিবল স্টাডি শেষে বিমানবন্দর আধুনিকায়নের কাজ শুরু করবে বেবিচক।

বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, দেশের চারটি এয়ারলাইন্স সৈয়দপুর ও কক্সবাজার বিমানবন্দরে যাত্রী পরিবহন করছে। চাহিদা বৃদ্ধির কারণে সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আঞ্চলিক এবং কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তর করার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা । এর পরিপ্রেক্ষিতে এসব বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে উদ্যোগ নিয়েছে মন্ত্রণালয়।

এখন অভ্যন্তরীণ যাত্রীদের চাপ সামলাতে সম্প্রসারণের কাজ করছে । সৈয়দপুর বিমানবন্দরটি সম্প্রসারণ করার জন্য ৮৫২ একর জমি অধিগ্রহণের পরিকল্পনা করেছে বেসামরিক বিমানপরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। এরমধ্যে সৈয়দপুরে ৫৩৫ একর এবং  পার্বতীপুরে ৩১৭ একর জমি অধিগ্রহণ করা হবে।

বিমানবন্দর সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণ কাজ শুরুর আগে বিমানবন্দর সম্প্রসারণের জন্য নতুন টার্মিনাল ভবন এবং দুটি বিমান পার্কিং স্পেস তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।  বিমানবন্দরের রানওয়ে বর্ধিত করা, নতুন করে ট্যাক্সিওয়ে, এ্যাপ্রোণ, প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল বিল্ডিং, কার্গো টার্মিনাল, বিল্ডিং কন্ট্রোল টাওয়ার, পাওয়ার হাউজ, পাম্প হাউজ, ফায়ার স্টেশন, প্রশাসনিক ভবন, অপারেশনাল ভবন, ভিআইপি ও ভিভিআইপি লাউঞ্জ, আবাসিক ভবন নির্মাণ, হ্যাঙ্গার, ভিডিওআর, ডিএমই, এনডিবি, আইএলএস, সিসিআর, এজিএল, রাডার স্টেশন, ওয়াটার সাপ্লাই ও ড্রেনেজ সিস্টেম, ওভারহেড ওয়াটার ট্যাংক, ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট, এমটি ভবন,কারপার্ক, এ্যাপ্রোচ সড়ক, ইন্টারনাল সড়ক এবং পেরিফেরাল পেট্রোল সড়ক নির্মাণ করা হবে।

এ প্রসঙ্গে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সদস্য এয়ার কমডোর মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘মূলত আঞ্চলিক বিমানবন্দর হিসেবে সৈয়দপুর বিমানবন্দর ব্যবহৃত হবে। তবে যে কোনও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার সক্ষমতা এই বিমানবন্দরের থাকবে।  একটি নতুন টার্মিনাল হবে যেখানে ৩০০ জনের বেশি যাত্রী ধারণে সক্ষম হবে। ২টি বিমান এখান সেখানে পার্কি করতে পারে, সেটি ৪টিতে উন্নীত করা হবে। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণ কাজ শেষ হলে তখন এ অংশ অভ্যন্তরীণ টার্মিনাল হিসেবে ব্যবহার হতে পারে।’

কর্মকর্তারা জানান, পর্যটক, যাত্রীসহ বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে প্রতিনিয়ত। তাদের চাহিদার কথা ভেবেই এসব পরিকল্পনা নিয়েছে মন্ত্রণালয়। ফলে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত, নেপাল, ভুটান, শ্রীলংকাসহ বিভিন্ন দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত হবে।

বর্তমানে কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তরের কাজ চলমান রয়েছে।কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে ১২ হাজার ফিট উন্নীতসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ চলছে। দেশের প্রধান পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত কক্সবাজারে দিনদিন বাড়ছে দেশি-বিদেশি পর্যটক যাত্রীর সংখ্যা। এই বিমানবন্দরে সরাসরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট উড্ডয়ন-অবতরণ করলে আরও বৃদ্ধি পাবে যাত্রী ও এয়ারলাইন্সের সংখ্যা।

এ দুটি বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তর করতে প্রায় ৫ বছরের মতো সময় লাগবে।