বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের পাঁচ কোম্পানীতে চীনের বিনিয়োগ

0
446

প্রিন্ট
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ৫ কোম্পানীতে ‌চীনের বিনিয়োগ আসার সম্ভাবনা রয়েছে । দেশের  ১০ কোম্পানির সঙ্গে চীনের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত পাঁচ কোম্পানির যৌথ ব্যবসার সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রাথমিক বুঝা পরমর্শ করার পর কোম্পানিগুলোর ব্যবসা পরিকল্পনা সামনে এগিয়ে নিতে আবারও বৈঠক বসবে। এ বিষয়ে সংশ্নিষ্ট ব্যক্তিবর্গরা মনে করেন, জাতীয় নির্বাচনের পর এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত আলোচন ও অগ্রগতি হবে ।

বাংলাদেশ ও চীন উভয় দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সম্পর্ক সৃষ্টির উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। ঢাকায় গত অক্টোবরের শেষদিকে দুই দেশের উদ্যোক্তা ও শীর্ষ কর্মকর্তারা বৈঠক করেন।

উক্ত বৈঠকে কৃষি, বিদ্যুৎ, অবকাঠামো, প্রকৌশলসহ কয়েকটি খাতের কোম্পানি নিজেদের মধ্যে নতুন ব্যবসার সম্পর্ক সৃষ্টির সুযোগ নিয়ে আলোচনা করে। ডিএসইর শীর্ষ কর্মকর্তারা বলেন, চীন ও বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা যৌথভাবে অনেক দিন থেকেই এ দেশে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। বর্তমানে এটিকে নতুন রূপে সম্পসারিত ও আরও বেশি  ব্যবসার উদ্যোগ সৃষ্টি করতেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ডিএসইর কৌশলগত অংশীদার হিসেবে চীনের সাংহাই ও সেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জ কাজ শুরুর পরই এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাজেদুর রহমান।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) ৬০ বছর পূর্তির অংশ হিসেবে প্রথমবারের মতো দুই দেশের উদ্যোক্তাদের বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠকে অংশ নেওয়া বাংলাদেশি কোম্পানিগুলো হলো- বারাকা পাওয়ার, শাহজীবাজার পাওয়ার, এনার্জি প্যাক, এএমসিএল (প্রাণ), কাজী ফার্মস, কেডিএস এক্সেসরিজ, শাশা ডেনিম, কাজী ফার্মস, স্প্যারো, সাকো ইন্টারন্যাশনাল ও আব্দুল মোনেম গ্রুপ। এর মধ্যে এএমসিএল (প্রাণ), কেডিএস এক্সেসরিজ, বারাকা পাওয়ার, শাশা ডেনিম ও শাহজীবাজার পাওয়ার  এদেশের শেয়ারবাজারের তালিকাভুক্ত কোম্পানী।

এবং চীনা কোম্পানিগুলো হলো- নিউ হোপ লিউই, ঝেজিয়াং ওয়েশিং ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট, নিংবো সিজিং, চায়না সিএএমসি ইঞ্জিনিয়ারিং এবং এসডিআইসি পাওয়ার হোল্ডিংস। এসব কোম্পানি কৃষি, প্রকৌশল, অবকাঠামো নির্মাণ ও বিদ্যুৎ খাতের। সবগুলো কোম্পানী সেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জের তালিকাভুক্ত । চীনা ব্যবসায়ীদের আনতে সহায়তা করছে সেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জ।

ডিসিসিআইর সভাপতি আবুল কাশেম, ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাজেদুর রহমান এবং সেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জের আন্তর্জাতিক বিভাগের পরিচালক লি ফুজং উভয় দেশের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের যৌথ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন । সম্পদ ব্যবস্থাপক কোম্পানি ভ্যানগার্ডও উক্ত বৈঠকে অংশ নেয়। ডিসিসিআইর সভাপতি বলেন, সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ আকর্ষণীয় গন্তব্য এবং দক্ষতা ও উৎপাদন খরচ বিবেচনায় বিদেশি বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ অনেক সম্ভাবনাময় প্লাটফর্ম বলেই চীনের ব্যবসায়ীরা এতে বিনিয়োগোর আগ্রহ দেখাচ্ছে।

বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ডিসিসিআই সব ধরনের সহযোগিতা করবে বলেও জানিয়েছে। লি ফুজং বলেন, বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশে অত্যন্ত অনুকূল পরিবেশ আছে। যৌথ বিনিয়োগে উভয় দেশ লাভবান হবে বলে তার আশা।