চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার ওঠানামার ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেকর্ড

0
136
প্রিন্ট

এক মাসে কনটেইনার ওঠানামায় নতুন রেকর্ড গড়েছে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর, চট্টগ্রাম । চলতি  অর্থবছরের নভেম্বর মাসে কনটেইনার ওঠানামা হয়েছে ২ লাখ ৬৫ হাজার ১৬৫ ইউনিট। বন্দরের ইতিহাসে এর আগে কখনো এক মাসে এত বেশি সংখ্যক কনটেইনার ওঠানামা হয়নি। সর্বশেষ গত মার্চ মাসে চট্টগ্রাম বন্দরে ২ লাখ ৫৯ হাজার ৫৮৩ ইউনিট কনটেইনার উঠানামা করেছিল। এর আগে ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৪৯ হাজার ইউনিট কনটেইনার উঠানামা হয়েছিল।

বিদ্যমান যন্ত্রপাতি ও টার্মিনাল-জেটি দিয়েই এর আগে কনটেইনার ওঠানামার রেকর্ড গড়েছিল বন্দর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু বর্তমানে আধুনিক ও নতুন প্রযুক্তির ৬টি যন্ত্র ‘কি গ্যান্ট্রি ক্রেন’ যুক্ত হওয়া কনটেইনার ওঠানামার নতুন রেকর্ড গড়ে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক  গোলাম সারোয়ার  বলেন, নতুন ৬টি কি গ্যান্ট্রি ক্রেন যুক্ত করে বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) সচল হওয়ায় কম সময়ে বেশি কনটেইনার ওঠানামা সম্ভব হয়েছে। সেই সাথে বন্দরের সক্ষমতা বেড়েছে এবং কনটেইনার ওঠানামা দ্রুত হওয়ায় জাহাজের গড় অবস্থানকালও কমেছে।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে নতুন জেটি ও টার্মিনাল চালু না হওয়া কনটেইনার ও পণ্য ওঠানামায় নতুন যন্ত্র যোগ না হওয়ায় চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডেলিং সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল। জেটি খালি না থাকায় জাহাজগুলোকে পণ্য নিয়ে বহির্নোঙরে বাড়তি সময় অলস বসে থাকতে হতো। এতে প্রতিদিন জাহাজের আকারভেদে ৮ থেকে ১২ হাজার ইউএস ডলার ক্ষতি পূরণ দিতে হতো ব্যবসায়ীদের। এ নিয়ে বন্দর ব্যবহারকারীদের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বাড়লেও তা আশ্বাসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।

চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান হিসেবে কমোডর জুলফিকার আজিজ ২০১৮ সালের শুরুতে যোগদান করেন। এর পর তিনি বেশ কিছু ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহন করেন ফলে বন্দরের পণ্য ওঠানামায় গতি কিছুটা বৃদ্বি পায় এবং বহির্নোঙরে জাহাজজট কমতে শুরু করে। তিনি আবারও উদ্যোগ নিয়ে নতুন ৬টি গ্যান্ট্রি ক্রেন ও যন্ত্রপাতি বন্দরের বহরে যোগ করে সবাইকে অবাক করে দেন। এই কারণে গত রমজানে বন্দরে পণ্যবাহী জাহাজের কোনো জট হয়নি। সর্বশেষ গ্যান্ট্রি ক্রেন যুক্ত হওয়ার পর বন্দরের বহির্নোঙরে পণ্যবাহী জাহাজের জট একেবারে শূন্য হয়ে যায়। এর সুফল গত নভেম্বর মাস থেকে পেতে শুরু করে বন্দর ব্যবহারকারী ও ব্যবসায়ীরা।

চলতি ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে ২ লাখ ৪৩ হাজার ইউনিট কনটেইনার ওঠানামা হয়। এরপর ফেব্রুয়ারিতে তা কমে  ২ লাখ ২১ হাজার ইউনিটে  হয়। সর্বশেষ মার্চ মাসে ২ লাখ ৫৪ হাজার ইউনিট ওঠানামা করে আগের সব রেকর্ড ছাড়ায় বন্দর কর্তৃপক্ষ। এরপর জুলাই মাসে ২ লাখ ৫৯ হাজার ইউনিট কনটেইনার ওঠানামা করে নতুন রেকর্ড গড়ে।নভেম্বর মাসে সেই রেকর্ডও অতিক্রম করে।

জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনাল, চট্টগ্রামের সাবেক প্রেসিডেন্ট গিয়াস উদ্দিন  বলেন, ‘পণ্য ওঠানামার ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি সামাল দেওয়া ছিল চট্টগ্রাম বন্দরের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। নির্ধারিত সময়ে গ্যান্ট্রি ক্রেনসহ অন্য যন্ত্রপাতি যুক্ত করা, অচল গ্যান্ট্রি ক্রেন সচল করা, নতুন টার্মিনাল নির্মাণ দ্রুত করার অনেক উদ্যোগ বর্তমান চেয়ারম্যান নেওয়ায় ব্যবহারকারীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে।