বস্ত্র খাতে ৫০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের ‍সুযোগ: বিটিএমএ সভাপতি

0
288
প্রিন্ট

আগামী পাঁচ বছরে দেশের বস্ত্র খাতে ৫০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করা যাবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন। গতকাল বস্ত্র খাতের প্রদর্শনী উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

সংগঠনটির সভাপতিসহ নতুন পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের উপস্থিতিতে কারওয়ান বাজারে বিটিএমএ কার্যালয়ের সংবাদ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সম্মেলনে জানানো হয়, আগামী ৯ থেকে ১২ জানুয়ারী পর্যন্ত চার দিনব্যাপী ‘দ্য ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল টেক্সটাইল অ্যান্ড গার্মেন্ট মেশিনারি এক্সিবিশন (ডিটিজি)’ রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় প্রদর্শিত হবে। বিটিএমএ ও হংকংয়ের ইয়র্কারস ট্রেড অ্যান্ড মার্কেটিং সার্ভিসেস কোম্পানি লিমিটেড যৌথভাবে প্রদর্শনীটি আয়োজন করছে ।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, টেক্সটাইল ও গার্মেন্ট খাতের সমৃদ্ধি ও প্রবৃদ্ধির জন্য ডিটিজির গুরুত্ব অনেক বেশি। এ বছর বিশ্বের ৩৭ দেশের ১ হাজার ২০০টি টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস মেশিনারি প্রস্তুতকারক কোম্পানি অংশগ্রহণ করছে। প্রদর্শনীতে মোট ১১টি হলে ১ হাজার ৬৫০টি বুথ থাকছে।

প্রদর্শনীটির উদ্বোধন করবেন নবনিযুক্ত পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান। প্রদর্শনীটি প্রতিদিন দুপুর ১২টায় শুরু হয়ে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। প্রদর্শনীতে প্রবেশের জন্য কোনো টিকিট লাগবে না।

২০১৭-১৮ অর্থবছরে মোট রফতানি আয় হয়েছে ৩৬ হাজার ৬৭০ কোটি ডলার। এর মধ্যে তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাত থেকে আয় হয়েছে ৩০ হাজার ৬১০ কোটি ডলার। বর্তমানে টেক্সটাইল খাতে ৭০ হাজার কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ রয়েছে, যা বাংলাদেশের বেসরকারি পর্যায়ে একক খাতে সর্বোচ্চ।

এক প্রশ্নের জবাবে বিটিএমএ সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন বলেন, বস্ত্র খাতে আগামী পাঁচ বছরে ৫০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগাতে অবকাঠামো উন্নয়ন ও প্রসারে বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধানও নিশ্চিত করতে হবে।

সরকার গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট দূরীকরণের লক্ষ্যে এলএনজি আমদানি করেছে। তবে সরকারকে এ ক্ষেত্রে একটি বিষয় নিশ্চিত করতে হবে, যেন এর সরবরাহ মূল্য সহনীয় পর্যায়ে থাকে এবং একটি গ্রহণযোগ্য সময় পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। এ জন্য সরকারের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

সভাপতি আরো বলেন, দেশী বিদেশী বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য সরকার এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। আমরা শুধু প্রাইমারি টেক্সটাইল খাতের মিলগুলোর জন্য ন্যূনতম ২৫টি অর্থনৈতিক অঞ্চল বরাদ্দের জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি।

তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে সমিতির নতুন সদস্য হয়েছে ৪৪টি কারখানা। এর মধ্যে ১৯টি স্পিনিং, ২৩টি ফ্যাব্রিকস ও দুটি ডায়িং প্রিন্টিং মিল। তাদের মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ৬ হাজার ৮৯৬ কোটি টাকা।