ভ্যাটের আওতায় আসতে হবে সবাইকে: অর্থমন্ত্রী

0
125

ভ্যাটের আওতায় আসতে হবে সবাইকে বলে জানিয়েছেন নব নিযুক্ত অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ভ্যাটের হার ১৫-২০ শতাংশ নয় বরং এটি সহনীয় পর্যায়ে রাখা হবে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। সবাইকে ভ্যাট দিতে হবে মর্মে প্রত্যেক দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ক্যাশ রেজিস্টার মেশিন স্থাপন করা হবে।

গতকাল বঙ্গভবনে অর্থমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহন করেন মুস্তফা কামাল। পরে সন্ধ্যায় নিজ মন্ত্রণালয় আসেন নব নিযুক্ত অর্থমন্ত্রী। অর্থ মন্ত্রণালয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দেয়া এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের চেয়ারম্যান ফজলে কবীর, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব ও এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, অর্থসচিব আবদুর রউফ তালুকদার সহ অন্যান্যরা উক্ত সংবর্ধনায় উপস্থিত ছিলেন।

তিনি কর্মকর্তাদের উদ্দেশ বলেন, আপনারা প্রজ্ঞাবান, আপনাদের কাজের জন্য আজ বাংলাদেশ অর্থনীতির ক্ষেত্রে বিশ্বের দরবারে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। দেশের প্রতি মমত্ববোধ ও ভালোবাসা দিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, বিশ্ব আমাদের কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করলেও অর্থনীতির এলাকা নিয়ে আমাদের প্রশ্নবিদ্ধ করে রেখেছে। এ বিষয়ে আমার চেয়ে আপনারা ভালো জানবেন। আমাদের অগ্রাধিকার ঠিক করতে হবে কিভাবে কম খরচ করে সর্বাধিক সম্পদ অর্জন করা যায়। রেট অব রিটার্ন কিভাবে ভালো এবং কিভাবে তা স্থায়ী করতে পারি।

অর্থমন্ত্রী কর্মকর্তাদের উদ্দেশে আরও বলেন, প্রথমেই আমার মাইন্ডকে ব্লক করে দেবেন না। আমাকেও ভাবতে সময় দেবেন। আপনাদেরকে সাথে নিয়ে আমিও কাজ করতে চাই । ২০১৯ সাল হবে আমাদের জন্য সুখকর বছর। এ জন্য সবাইকে শ্রম ‍দিতে হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে ৪ কোটি মানুষ মধ্যম আয়ের। তাদের কিছু না কিছু কর দেয়ার ক্ষমতা আছে। কিন্তু তারা তা দেয় না বা আমরা তা নেই না। কিন্তু কর দিচ্ছে মাত্র ১৬ লাখ মানুষ। ইন্দোনেশিয়ার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, এই দেশটি মাত্র পাঁচ মাসে রাজস্ব প্রবৃদ্ধি করেছে ৩২ শতাংশ। এটি তারা করেছে আমদানি ও রফতানি পণ্য স্ক্যান করে। এর মাধ্যমে তারা রাজস্ব আয় বাড়িয়েছে। আমাদেরও স্ক্যানার বসাতে হবে। এ ক্ষেত্রে আমাদের ‘রাফ অ্যান্ড টাফ’ হতে হবে।

তিনি বলেন, ভ্যাট আমাদের সবাইকে দিতে হবে। তবে সেই ভ্যাট ১৫ বা ২০ ভাগ তা কেউ দেবে না। আমরা সহনীয় পর্যায়ে ভ্যাটের রেট করব। কিন্তু যা করব তা থেকে আমাদের সবার কাছ থেকে পেতেই হবে। শতভাগ রাজস্ব আদায়ের জন্য প্রত্যেক দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ক্যাশ রেজিস্টার মেশিন বাধ্যতা মূলক করতে হবে। আর ক্যাশ রেজিস্টার কেনার যাদের সামথ্য নেই, তাদেরকে আমরা ক্যাশ রেজিস্টার কিনে দিব। এ জন্য তাদের সুদ দিতে হবে বা পণ্য বিক্রি করে আমাদের মেশিনের অর্থ পরিশোধ করে দিতে হবে।