২০১৮ সালে বিমান দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ

0
312
প্রিন্ট

২০১৮ সালে সারা বিশ্বে বিমান দুর্ঘটনায় মোট ৫৫৬ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এর মধ্যে বাংলাদেশী একটি বেসরকারি বিমান সংস্থার বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হয় ৫১ জন। গত পাঁচ বছরের মধ্যে বিমান দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির সংখ্যা বিচারে সবচেয়ে খারাপ বছর ছিল ২০১৮ সাল। বেসামরিক বিমান চলাচল-বিষয়ক তথ্যপঞ্জি Aviation Safety Network (ASN) সম্প্রতি এ তথ্য জানিয়েছে।

ASN বলেছে, ইন্দোনেশিয়ার লায়ন এয়ারের দুর্ঘটনাটি ছিল ২০১৮ সালে সবচেয়ে ভয়াবহ। গত ২৯ অক্টোবর জাভা সমুদ্রে এ এয়ারলাইনসের বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স বিমান বিধ্বস্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন ১৮৯ জন। এর আগে জুলাইয়ে কিউবায় একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ১১২ জনের মৃত্যু হয়। বছরের প্রথমার্ধে ফেব্রুয়ারিতে ইরানের জাগ্রোস পর্বতমালায় প্লেন বিধ্বস্ত হয়ে মারা যান ৬৬ জন। এরপর মার্চে নেপালের কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে বাংলাদেশী ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ড্যাশ-৮ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে মারা যান ৫১ জন। এছাড়া ছোটখাটো অনেক দুর্ঘটনা ঘটেছে বিগত বছরে।

ASN-এর তথ্যমতে, গত বছর সারাবিশ্বে মোট ১৫টি প্রাণঘাতী বিমান দুর্ঘটনা ঘটেছে এবং এসব দুর্ঘটনায় মোট ৫৫৬ জন নিহত হয়েছেন। সে তুলনায় ২০১৭ সালে বিমান দুর্ঘটনার সংখ্যা ছিল ১০টি এবং প্রাণহানি সংখ্যা ছিল ৪৪ জন। শুধু ২০১৭ নয়, গত পাঁচ বছরে বিমান দুর্ঘটনা ও নিহতের সংখ্যা বিচারে ২০১৮ সালটি ছিল সবচেয়ে খারাপ বছর। পাঁচ বছরে বাণিজ্যিক বিমান দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির সংখ্যা ছিল গড়ে যথাক্রমে ১০ ও ৪৮০।

ASN-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির তুলনামূলক বিচারে বিমান চলাচলের ইতিহাসে সবচেয়ে নিরাপদ বছরের তালিকায় নবম অবস্থানে রয়েছে ২০১৮ সাল। গত ২০ বছরের তুলনামূলক হিসাবেও এখন বিমান দুর্ঘটনা কম হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এএসএন প্রধান নির্বাহী (সিইও) হারো রেন্তার বলেন, অতীতের তুলনায় পরিস্থিতির অনেকটা উন্নতি হয়েছে। আগে বছরে গড়ে ৩৯টি বিমান দুর্ঘটনা ঘটত। তার মধ্যে ২০০০ সালে ৬৪টি বিমান বিধ্বস্ত হয়। তবে ২০১৭ সালে যাত্রীবাহী কোনো বিমান বিধ্বস্ত হয়নি, বছরটি ছিল আকাশপথে ভ্রমণের সবচেয়ে নিরাপদ বছর। এছাড়া বিগত বছরগুলোর ইতিহাসে কমার্শিয়াল এয়ারলাইনসগুলো সবচেয়ে নিরাপদে ছিল গত বছর।

 গত বছর বাংলাদেশে কোনো বিমান দুর্ঘটনা না ঘটলেও দেশের বাইরে (নেপালে) ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ৫১ জন প্রাণ হারায় এরমধ্যে ২২ জন নেপালি, ১ জন চীনা নাগরিক ও অন্যরা বাংলাদেশী ছিল।

গত ১২ মার্চ ৭১ জন আরোহী নিয়ে ঢাকা থেকে কাঠমান্ডুগামী বাংলাদেশের বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলার ফ্লাইট বিএস২১১ ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত হয়। এজন্য ওই দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে কান্ট্রি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ASN-এর প্রতিবেদনে।