বাণিজ্য ঘাটতি কমেছে: অর্থনীতিতে স্বস্তি

0
36

প্রতিনিয়ত বাণিজ্য ঘাটতির ফলে দেশের অর্থনীতিতে একধরনের অস্বস্তি তৈরি হলেও সাম্প্রতিক সময়ে অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। চলতি অর্থবছরের (২০১৮-১৯) প্রথম পাঁচ মাসে ১২ শতাংশ বাণিজ্য ঘাটতি কমে এসেছে এবং বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের সমতার ঘাটতিও কমে এসেছে।

দেখা গেছে, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বর্তমানে আমদানি অনেক বেশি হয়েছে এবং জুলাই থেকে নভেম্বর সময়ে রপ্তানির প্রবৃদ্ধিও অনেক বেড়েছে। আমদানিতে যেখানে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬.৬৪ শতাংশ সেখানে রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৬.৭৫ শতাংশ। আমদানির তুলনায় রপ্তানি বেড়েছে ১০.১১ শতাংশ অর্থাৎ রপ্তানি বেশি হওয়ার কারণেই বাণিজ্য ঘাটতি কমে এসেছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ও বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে অনুযায়ী, গত জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সময়ে বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করে আয় হয়েছে ১ হাজার ৬৭৭ কোটি ৩০ লাখ ডলার। যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ২৪০ কোটি ৭০ লাখ ডলার বেশি।

অন্যদিকে এ সময়ে আমদানিতে ব্যয় হয়েছে ২ হাজার ৩৪৩ কোটি ২০ লাখ ডলার। আগের বছরে একই সময়ে আমদানি হয়েছিল ২ হাজার ১৯৭ কোটি ৩০ লাখ ডলার। আমদানিজনিত চাপে দেশের ভেতরে ডলারের চাহিদা বেড়েছে এবং বাণিজ্য ঘাটতি কিছুটা কমলেও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ বেড়েছে। একই সময়ে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সও বেড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মাসিক প্রতিবেদনের তথ্যমতে লেনদেনের ভারসাম্য, ২০১৭-১৮ অর্থবছরের একই সময়ে পণ্যবাণিজ্যে ঘাটতি ছিল ৪৭৪ কোটি ৪০ লাখ ডলার। চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে পণ্যবাণিজ্যে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২৫৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার। অর্থাৎ ২০১৭-১৮ অর্থবছরের চেয়ে গত অর্থবছরে চলতি হিসাবের ঘাটতি ২১৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার কমেছে।

প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম দিকে বাণিজ্য ঘাটতি কমে দাঁড়িয়েছে ৬৬৫ কোটি ৯০ লাখ ডলারে। গত অর্থবছরের একই সময়ে বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ৭৬০ কোটি ৬০ লাখ ডলার। অথ্যাৎ গত বছরে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে ১ হাজার ৮২৫ কোটি ডলার হয়েছিল। যা ছিল দেশের ইতিহাসে রেকর্ড।

উল্লেখ্য, রপ্তানি আয়ের চেয়ে আমদানি ব্যয় যেটুকু বেশি, তার পার্থক্যই বাণিজ্য ঘাটতি। আর চলতি হিসাবের মাধ্যমে দেশের নিয়মিত বৈদেশিক লেনদেন পরিস্থিতি বোঝানো হয়। আমদানি-রপ্তানিসহ অন্যান্য নিয়মিত আয়-ব্যয় এতে অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকে।