মোটা চাল হয়ে যাচ্ছে মিনিকেট

0
186
প্রিন্ট

মানব শরীরে জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান হচ্ছে জিংক। জিংকের অভাবে মানব শরীরে ডায়েরিয়া, স্মৃতিশক্তি কমা, নিউমোনিয়াসহ নানা রোগের কারণ হতে পারে। আর এই জিংক ঘাটতিতে ভুগছে দেশের ৭৩ ভাগ নারী ও ৪১ ভাগ শিশু। ধানের নাম মিনিকেট না থাকলেও চালের নাম ‘মিনিকেট’। বিভিন্ন জাতের মোটা চালকে মেশিনে ছাটাঁই করে বানানো হয় মিনিকেট চাল। আর চাল ছাটাইয়ের সাথে সাথে নষ্ট হচ্ছে খনিজ উপাদান জিংক। বর্তমান বাজারে বিদ্যামান চালের মধ্যে মিনিকেট চালে সবচেয়ে কম (৬.৩৬ পিপিএম) জিংক পাওয়া যায়। বিভিন্ন জাতের মোটা চাল ২০ ভাগ পর্যন্ত ছেঁটে বাজারে ছাড়া হয় মিনিকেট নামে।

গবেষণার তথ্য বলছে, পুষ্টিচাহিদা পূরণের জন্য প্রতিকেজি চালে কমপক্ষে ১২পিপিএম জিংক থাকা দরকার। কিন্তু মিনিকেটে আছে মাত্র ৬.৩৬ পিপিএম। সবচেয়ে বেশি ১২.৯২ রয়েছে নাজিরশাইলে। কাটারিভোগে ১১.৩৯, ২৮ চালে ৯.৬৮, স্বর্ণায় ৮.৯ এবং বাংলামতিতে ৭.৬২ পিপিএম। আর অন্যান্য চালে জিংক রয়েছে গড়ে ১০ পিপিএম।

সরকারি তথ্য বলছে, দেশের পাঁচ বছর বয়সী ৪১ শতাংশ শিশু আর বিভিন্ন বয়সী ৭৩ শতাংশ নারী এখনো ভুগছে জিংক স্বল্পতায়। এ ঘাটতি মেটাতে চাষ হচ্ছে উচ্চ জিংক সমৃদ্ধ ধান। কিন্তু সচেতনতার অভাবে প্রতিদিনের খাবার টেবিল থেকে হারিয়ে যাচ্ছে জিংক।

বিশ্ব খাদ্য সংস্থার মতে, একজন সুস্থ্য মানুষের দৈনিক ৮ পিপিএম জিংক দরকার। তাই কেবল চালের ওপর নির্ভর না করে, পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন পুষ্টি বিজ্ঞানীরা।