জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে বিখ্যাত খিরসাপাত আম

0
225
প্রিন্ট

ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে নিবন্ধন পেতে যাচ্ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার অত্যন্ত স্বসাদু ফল ”খিরসাপাত আম”।

আজ রোববার সকালে শিল্প মন্ত্রণালয়ে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এর সনদ প্রদান করবেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন। ভারপ্রাপ্ত শিল্প সচিব মো. আবদুল হালিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার। সদন প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেড মার্কস্ অধিদপ্তর (ডিপিডিটি)।

এর আগে দেশের প্রথম ঐতিহ্যবাহী পণ্য হিসেবে জামদানিকে জিআই নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে। এরপর জাতীয় মাছ ইলিশ জিআই সনদ লাভ করেছে। এবার দেশের তৃতীয় পণ্য হিসেবে আজ জিআই নিবন্ধন সনদ পেতে যাচ্ছেন ‘চাঁপাইনবাবগঞ্জের খিরসাপাত আম’। স্বীকৃতি পাওয়ার পর স্থানীয় আমচাষিরা তাঁদের খিরসাপাত আমে জিআই লেবেল ব্যবহার করতে পারবেন।

উল্লেখ্য, ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য বা জিআই হচ্ছে মেধাসম্পদের অন্যতম শাখা। কোনো একটি দেশের মাটি, পানি, আবহাওয়া, জলবায়ু এবং ওই দেশের জনগোষ্ঠী যদি কোনো একটি অনন্য গুণমানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, তাহলে সেটিকে ওই দেশের ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য বা জিআই পণ্য  হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। একই গুণমানসম্পন্ন সেই পণ্য শুধু ওই এলাকা ছাড়া অন্য কোথাও উত্পাদন করা সম্ভব নয়।

দেশে উৎপাদিত আমের শতকরা ২০ থেকে ২৫ ভাগ আমই খিরসাপাত জাতের। প্রতিবছর বিদেশে রপ্তানি হওয়া আমের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে খিরসাপাত। দেশের চাহিদা মিটিয়ে বর্তমানে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের আম রপ্তানি হচ্ছে। খিরসাপাত আমের বিপুল সম্ভাবনা বিবেচনা করে এর জিআই নিবন্ধনের উদ্যোগ নেয়া হয়।

ইতিহাস ও ঐতিহ্যের দিক থেকে বাংলাদেশ সমৃদ্ধশালী হলেও দীর্ঘ সময় ধরে জিআই আইন না থাকায় এদেশের ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্যের মালিকানার সুযোগ ছিল না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য (নিবন্ধন ও সুরক্ষা) আইন, ২০১৩ এবং ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য (নিবন্ধন ও সুরক্ষা) বিধিমালা, ২০১৫ প্রণয়ন করা হয়। এরপরই দেশের ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই পণ্য নিবন্ধনের পথ সুগম হয়।

জিআই নিবন্ধনের জন্য বিশ্ববাজারে এটি ‘চাঁপাইনবাবগঞ্জের খিরসাপাত আম’নামে পরিচিতি পাবে। এর ফলে এ আমের আবাদ বাড়াতে বাগান মালিকরা আগ্রহী হবেন। এতে করে একদিকে আমের উত্পাদন বাড়বে এবং অন্যদিকে স্থানীয় পর্যায়ে আমকেন্দ্রিক অর্থনীতি জোরদার হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।