শিশু ও কিশোরদের থেকে মোবাইল ফোন দূরে রাখুন

0
45
প্রিন্ট

বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে গুরুত্বপূর্ণ একটি ডিভাইস হচ্ছে মোবাইল ফোন। ইহা একটি যোগাযোগ ও বিনোদনের মাধ্যমও বটে। এই মোবাইল ফোন দিয়ে ইন্টারনেট চালানো, গান শোনা ও ভিডিও দেখা যায় ।

তাই শিশুরা মোবাইল ফোনকে বিনোদনের যন্ত্র হিসেবেই বেশি ব্যবহার করে। গেম খেলা থেকে শুরু করে, ইন্টারনেট ব্যবহারে শিশুরা খুব সহজেই আসক্ত হয়ে পড়ছে। এতে শিশুদের শুধু লেখাপড়া ক্ষতিই নয় বরং শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির পরিমানই বেশি হচ্ছে। আজকাল দেখা যায় শিশুরা সারাক্ষন মোবাইলে গেম খেলা, ভিডিও দেখা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক নিয়েই দিনের অধিক সময় পাড় করছে, ফলে অন্যান্যদের সঙ্গে কথা বার্তাও কম বলছে। এটা এক প্রকার রোগে পরিণত হচ্ছে।

মোবাইলের স্ক্রিনে খুব বেশি সময় কাটানোর ফলে শিশুরা ঝুঁকছে মারাত্মক ক্ষতির দিকে। চোখে কম দেখা, অতিরিক্ত ওজন বাড়িয়ে দেয়া, এমন কি ক্যান্সারও হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এছাড়া বাচ্চাদের কান্না থামাতে কিংবা খাবার খাওয়ানোর সময় অনেক বাবা মা-ই শিশুর হাতে মোবাইর ফোন দিয়ে থাকেন। বাচ্চাকে খাওয়াতে বসতে মায়ের কেটে যায় ঘণ্টা তিনেক সময়। কিছুই মুখে তুলতে চায় না সে। একমাত্র উপায়, মোবাইল ফোনে কার্টুনের ভিডিও চালিয়ে তার হাতে তুলে দেওয়া। তা হলে গপগপ করে খেয়ে নিচ্ছে সব খাবার।

ব্রিটিশ চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, খাবার ও ঘুমের সময় শিশু কিশোরদের থেকে মোবাইল দূরে রাখুন। খাওয়া ও ঘুমের সময় মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করেছেন যুক্তরাজ্যের শীর্ষ চারজন প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা। তাই ব্রিটেনের চিকিৎসা কর্মকর্তারা শিশু-কিশোরদের থেকে মোবাইল ফোন নিরাপদ দূরত্বে রাখার জন্য কিছু পরামর্শ দিয়েছেন।

জেনে নেয়া যাক শিশুদের নিরাপদ রাখতে কী করণীয়:

১. খাওয়ার সময় শিশুর হাতে মোবাইল দেবেন না। এ সময় বাবা-মা শিশুদের সঙ্গে কথা বলে অথবা গল্প বলে ভালো সময় কাটাতে পারে।

২. ঘুমানোর আগে ও পরে মোবাইল ফোন বিছানায় বা হাতের নাগালে রাখবেন না। দূরে সরিয়ে রাখুন।

৩. রাস্তা চলাচল বা পারাপারের সময় শিশুর হাতে কখনো মোবাইল ফোন দিবেন না।

৪. শিশুরা যাতে বেশি সময় স্ক্রিনে চোখ না রাখে সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে।

৫. আপনি আপনার কাজের বাইরে শিশুকে সময় দিন। শিশুর জন্য নিজের মতো করে সময় বের করুন।

৬. শিশুরা অনেক সময় খেয়াল করলে দেখবেন পর্দার সঙ্গে আপনার শিশুর রাগ ও বিষণ্ণতা মিলে যায়। এসব ব্যাপারে সতর্ক থাকুন।

৭. ইন্টারনেট ব্যবহারকারী শিশুদের মধ্যে অনেক সময় রাগ ও আত্মহত্যার প্রবণতা দেখা দিতে পারে। তাই এসব বিষয়ে খেয়াল করতে হবে।