বেনাপোল স্থলবন্দরে ধর্মঘট : রপ্তানি বাণিজ্য বন্ধ

0
17
প্রিন্ট

আমদানি বাণিজ্য স্বাভাবিক থাকলেও ভারতের সঙ্গে রপ্তানি বাণিজ্য বন্ধ রয়েছে বেনাপোল স্থলবন্দরের। গতকাল বুধবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে বাংলাদেশি ট্রাক ড্রাইভাররা ধমর্ঘট ডেকে ভারতের পেট্রাপোল বন্দরের সঙ্গে রপ্তানি বাণিজ্য বন্ধ করে দেয়। ট্রাক ড্রাইভাররা জানায়, বাংলাদেশি ট্রাক চালকদের ভারতের নিরাপত্তাকমীর্রা মারধর ছাড়াও বিভিন্ন অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও চালকদের অযথা হয়রানির কারনে তারা এই ধমর্ঘটের ডাক দেয়।

বেনাপোল বন্দর সূত্র জানায়, প্রতিদিন ১৫০-২০০ ট্রাক বাংলাদেশে উৎপাদিত পণ্য ভারতে যায়। আর ভারতীয় পণ্য আমদানি হয় প্রায় ৩৫০-৪০০ ট্রাক। বতর্মানে সপ্তাহে ছয়দিনে ২৪ ঘণ্টা নিরলসভাবে ভারতীয় পণ্যের আমদানি বাণিজ্য চললেও ভারতীয় কতৃর্পক্ষ বাংলাদেশি রপ্তানি পণ্য খালাসে ২৪ ঘণ্টা কাজ করছে না। এতে ট্রাক আটকে থাকায় লোকসান গুণতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের।

অভিযোগ করে ড্রাইভাররা বলে, ভারতীয় ট্রাক বেনাপোল বন্দরে প্রবেশের সময় বাংলাদেশ বডার্র গার্ড (বিজিবি) সেসব ট্রাকে তল্লাশি না চালালেও ভারতীয় বিএসএফ সদস্যরা বাংলাদেশি পণ্যবাহী সব ট্রাকে কোনো কারণ ছাড়াই দীঘর্ সময় ধরে তল্লাশি চালায়। এতে রপ্তানি বাণিজ্য মারাত্মক বিঘ্নিত হচ্ছে। অন্যদিকে, বেনাপোল বন্দরে ভারতীয় ট্রাকচালকদের জন্য থাকা-খাওয়ার সুনিদির্ষ্ট ব্যবস্থা থাকলেও পেট্রাপোল বন্দরে ট্রাকচালকদের জন্য শুধুমাত্র টয়লেট ছাড়া অন্য কোনো সুযোগ-সুবিধা নেই।

এছাড়াও, ভারতীয় ট্রাকচালকরা পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে ২৪ ঘণ্টা বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দরের মধ্যে যাতায়াতের সুযোগ পেলেও বাংলাদেশি ট্রাকচালকদের ক্ষেত্রে এই সুবিধা দেয়া হয় না। পাশাপাশি সামান্য কারণেই বিএসএফ সদস্যরা তাদের মারধর করে।

বিষয়টি নিয়ে ভারতীয় বন্দর কতৃর্পক্ষ ও ব্যবসায়ীদের একাধিকবার অভিযোগ করার পরও তারা কোনো সু-ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এতে বাধ্য হয়েই বাংলাদেশি ট্রাকচালকরা ভারতের সঙ্গে রপ্তানি বাণিজ্য বন্ধ রেখেছে। ট্রাক ও ট্রাকলরি শ্রমিক ইউনিয়নের বেনাপোল শাখার সাধারণ সম্পাদক শাহিন জানান, ভারতীয় বন্দর কতৃর্পক্ষের হয়রানিমূলক কমর্কান্ড পরিহারের বিষয়ে সুষ্ঠু পদক্ষেপ না নেওয়া পযর্ন্ত ধর্মঘট চলবে।