অর্থবছরের শুরুতেই বাণিজ্য ঘাটতি ৩.৫ বিলিয়ন ডলার

0
107
প্রিন্ট

অর্থবছরের প্রথম চার মাসেই বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাব ভারসাম্যে (ব্যালেন্স অব পেমেন্ট) বড় ঘাটতিতে পড়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, জুলাই-অক্টোবর সময়ে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৩৩১ কোটি ডলার, যা গত অর্থবছরের পুরো সময়ের ঘাটতির ১২৪ শতাংশ বেশি। আর গত অর্থবছরের একই সময়ের (জুলাই-অক্টোবর) তুলনায় ৭৪২৫ শতাংশ বেশি। ২০১৬-১৭ অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবর সময়ে বাংলাদেশের লেনদেন ভারসাম্যে ৪ কোটি ৪ লাখ ডলারের ঘাটতি ছিল। আর অর্থবছর শেষ হয়েছিল ১৪৮ কোটি ডলারের ঘাটতি নিয়ে।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষণা পরিচালক জায়েদ বখত ধারনা করে বলেন, আমদানি বাড়তে থাকলে এ অর্থবছরের বাকি সময়েও ঘাটতির এই ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। তবে রিজার্ভ পর্যাপ্ত থাকায় উদ্বিগ্ন হওয়ার খুব বেশি কারণ নেই বলে বলেন তিনি। নিয়মিত আমদানি-রফতানিসহ অন্যান্য আয়-ব্যয় চলতি হিসাবের অন্তর্ভুক্ত। এই হিসাবে উদ্বৃত্ত থাকার অর্থ হলো, নিয়মিত লেনদেনে দেশকে কোন ঋণ করতে হচ্ছে না। আর ঘাটতি থাকলে সরকারকে ঋণ নিয়ে তা পূরণ করতে হয়।

তিনি আরও বলেন, জ্বালানি তেল, খাদ্যপণ্য, মূলধনী যন্ত্রপাতি, শিল্পের কাঁচামালসহ অন্যান্য পণ্য আমদানি বাড়ায় আমদানি খাতে ব্যয় বেড়েছে। সে তুলনায় রফতানি আয় খুব একটা বাড়েনি। ফলে অর্থবছরের শুরুতেই লেনদেন ভারসাম্যে এই বড় ঘাটতি তৈরি হয়েছে। বেশ কিছুদিন বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কম থাকায় আমদানি খরচ কম হচ্ছিল। কিন্তু বছর খানেক ধরে তেলের দাম বাড়ায় পরিস্থিতি বদলেছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বিশ্ববাজারে প্রতি ব্যারেল (প্রায় ১৫৯ লিটার) অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ছিল ৩০ থেকে ৩৫ ডলার। এখন তা ৬০ ডলার ছাঁড়িয়েছে। তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবর সময়ে জ্বালানি তেল আমদানিতে খরচ বেড়েছে ৪১.৩৮ শতাংশ। আর খাদ্যপণ্য (চাল ও গম) আমদানিতে ব্যয় বেড়েছে ২৪০.৫ শতাংশ। পাশাপাশি পদ্মা সেতুসহ বেশ কয়েকটি বড় প্রকল্পের কাজ চলায় প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম আমদানিতেও ব্যয় বেড়েছে। মূলধনী যন্ত্রপাতি এবং শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে খরচ বেড়েছে যথাক্রমে ২৮ শতাংশ এবং ১৬.২৩ শতাংশ।