পা জ্বালাপোড়ার কারণ ও করনীয়

0
3329
ছবি প্রতীকী
প্রিন্ট

বার্নিং ফিট সিন্ড্রোম বা পা জ্বালাপোড়া করা একটি প্রচলিত রোগ। পুরুষের তুলনায় মেয়েরা এ রোগের শিকার বেশি হয়ে থাকেন।  তবে ২০ থেকে ৪০ বছর বয়সে এবং ৫০ বছরের ঊর্ধ্বে যে কেউ এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে।

এতে গোড়ালি ছাড়াও পায়ের উপরিভাগসহ সম্পূর্ণ পায়ে জ্বালাপোড়া করতে পারে। এমনকি ব্যথাও হতে পারে। প্রথম দিকে জ্বালাপোড়া কম থাকলেও অনেক সময় এই জ্বালাপোড়া দীর্ঘস্থায়ী হয়। অনেক সময় পায়ের রঙ পরিবর্তন হয়, অতিরিক্ত ঘাম হয় এবং পা ফুলে যায়। চাপ প্রয়োগ করলে কোনো ব্যথা অনুভূত হয় না। সাধারণত রাতের দিকে জ্বালাপোড়া বেড়ে যায় এবং প্রায়ই ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর এ ধরনের উপসর্গ থাকে না।

পা জ্বালাপোড়ার কারণ: বিভিন্ন কারণে পা জ্বালাপোড়া হতে পারে। তবে এর মধ্যে অন্যতম কারণ হলো স্নায়ুরোগ। এছাড়া ভিটামিনের অভাব (ভিটামিন বি১২ এবং বি৬), দীর্ঘমেয়াদী কিডনি রোগ বা কিডনি ফেইলুর (হিমোডায়ালাইসিস রোগী) থাইরয়েড সমস্যা, এইচআইভি, উচ্চ রক্তচাপ, পানি চলে আসা, ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াসহ বিভিন্ন কারণেও হতে পারে বার্নিং ফিট সিন্ড্রোম।

এছাড়াও পরিবর্তিত বিপাকীয় ও হরমোনের সমস্যা (ডায়াবেটিস, হাইপোথাইরোডিজম), যকৃৎ ফাংশন খারাপ, কেমোথেরাপি, দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত মদপান, ইলফিটিং বা ডিফেক্টিভ জুতা পরিধান, অ্যালার্জি জনিত কাপড় ও মোজা ব্যবহার করা ইত্যাদি কারনে বার্নিং ফিট সিন্ড্রোম বা পা জ্বালাপোড়া করতে পারে।

করণীয়: প্রতিকার ও চিকিৎসার মাধ্যমে এ রোগ থেকে মুক্ত হওয়া যায়।

– সুপরিমাপের খোলা ও আরামদায়ক জুতা পরিধান করতে হবে। আরামদায়ক সুতার মোজা ব্যবহার করা উত্তম।

– পায়ের আর্চ সাপোর্ট, ইনসোল ও হিল প্যাড ব্যবহারে উপসর্গ লাঘব হবে।

– পায়ের পেশির ব্যায়াম ও ঠাণ্ডা পানির (বরফ ছাড়া) সেঁক উপসর্গ নিরাময়ে অনেক উপকারী।

– রোগ প্রতিরোধে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন সেবন করতে হবে এবং চিকিৎসায় ভিটামিন ইনজেকশন পুশ করতে হবে।

– মদপান ও ধূমপান থেকে বিরত থাকতে হবে এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রিত রাখতে হবে।

– স্নায়ু ইনজুরি, অবরুদ্ধ (ইনট্রাপমেন্ট) ও সংকোচন হলে যথোপযুক্ত চিকিৎসা গ্রহণ করা বাঞ্ছনীয়।

– বার্নিং ফুট সিনড্রোম থেকে সুস্থ থাকতে হলে সবাইকে চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধে সচেষ্ট থাকতে হবে।