পেটের চর্বি কমাতে গোলমরিচ

0
2042
প্রিন্ট

পেটে মেদ বা চর্বি বাড়লে মানুষের চিন্তার শেষ নেই। তাই চর্বি কমাতে চেষ্টার কমতি নেই। তবে প্রতিটি পরিবারে নিত্যদিনের রান্নায় ব্যবহৃত একটি মসলা যা আপনার পেটের চর্বি ও ওজন কমাতে সাহায্য করে। আর এই মসলাটি হলো ‘ব্ল্যাক পেপার’ অর্থাৎ গোলমরিচ।

ভিটামিন এ, সি এবং কে, খনিজ উপাদান, স্বাস্থ্যকর ফ্যাটি অ্যাসিড এবং ‘পিপেরাইন’ সবগুলোর সমন্বয় থাকায় গোলমরিচ প্রাকৃতিকভাবে বিপাকক্রিয়ার গতি বাড়িয়ে দেয়, ফলে ওজন ও চর্বি কমে।

হজমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে গুলমরিচ। ব্রিটিশ মাল্টিন্যাশনাল প্রকাশনা ডি কে পাবলিশিংয়ের ‘দ্য হিলিং ফুডস’ বইয়ের মতে, ‘গোলমরিচ হজমে সাহায্য করে, খিদে বৃদ্ধি করে, শরীর থেকে টক্সিন বের করতে সাহায্য করে এবং ফুসফুস ও ব্রঙ্কিয়ালের ইনফেকশন কমায়। এ ছাড়া স্ট্রেস ও শক কমাতেও এর জুড়ি নেই।

গোলমরিচ খাওয়ার স্বাস্থ্যকর পন্থা সম্পর্কে জানিয়েছেন ভারতের খাদ্যাভ্যাস ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞ নমামি আগারওয়াল এবং মেহের রাজপুত বলেন:

– গোলমরিচের ঝাঁঝালো স্বাদ সইতে পারলে প্রতিদিন সকালে এক থেকে দুইটি দানা মুখে ফেলে চিবিয়ে খেতে পারেন। এতে সকাল থেকেই বিপাকক্রিয়া চলবে দুর্দান্ত গতিতে।

– চায়ের কাপে এক চিমটি গোলমরিচের গুঁড়া মিশিয়ে পান করতে পারেন। এতে স্বাদেও আসবে ভিন্নতা।

– সালাদ যে পুষ্টিকর খাবার তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তাকে আরও মজাদার ও স্বাস্থ্যকর করতে তাতে মিশিয়ে দিতে পারেন গোলমরিচের গুঁড়া।

– গরমের দিনে ঠাণ্ডা পানীয় যেন অমৃত। লেবুর শরবতের সাথে গুলমরিচের গুড়া মিশিয়ে নিলে স্বাদে যেমন চমক আনবে পাশাপাশি ওজন কমা, অন্ত্র থাকবে সুস্থ, বাড়বে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাও।

– গোলমরিচের তেলও আছে, যার এক ফোঁটা এক গ্লাস পানিতে মিশিয়ে সকালে খালি পেটে পান করতে পারেন। এছাড়াও সালাদের তেল হিসেবেও ব্যবহার করা যায়।

– লিপিড প্রোফাইল এবং রক্তরস বা প্লাজমাতে ফ্যাটি অ্যাসিড, ট্রাইগ্লিসারাইডস, ফসফোলিপিডস ‍এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে গোলমরিচ। পাশাপাশি শরীরে স্বাস্থ্যকর কোলেস্টেরলের উৎপাদন বাড়ায় ও নতুন চর্বি কোষ গড়ে উঠতে বাধা দেয়।

– গোলমরিচে উপস্থিত থার্মোজেনিক এফেক্টের জন্য সঠিক মাত্রায় শরীরের ক্যালোরি ক্ষয় হয়। গোলমরিচ দানা বা গুঁড়ো উভয় ভাবেই খাওয়া যায়।

– সর্বোচ্চ উপকার পেতে মধুর সঙ্গে গোলমরিচ মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে।