আরও দুটি নতুন ব্যাংকে প্রাথমিক সম্মতিপত্র দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক

0
163
প্রিন্ট

আরও দুটি নতুন ব্যাংক চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে, ব্যাংক দুটি হলো: বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক এবং সিটিজেন ব্যাংক। ইতিমধ্যে ব্যাংক দুটিকে লাইসেন্সের জন্য প্রাথমিক সম্মতিপত্র (এলওআই বা লেটার অব ইনটেন্ট) এবং কিছু শর্ত দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। শর্তগুলো বাস্তবায়ন করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জানালে এরপরই পরিপূর্ণভাবে কার্যক্রম শুরুর অনুমোদন দেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। মানি লন্ডারিংসহ বেশ কিছু জটিলতায় কারনে পিপলস ব্যাংকের প্রাথমিক অনুমোদনের সম্মতিপত্র আটকে যায়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, গত সপ্তাহে বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক এবং সিটিজেন ব্যাংককে এলওআই দেয়া হয়েছে। তবে পিপলস ব্যাংকের প্রস্তাবিত উদ্যোক্তা চেয়ারম্যান এমএ কাশেমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ  থাকর কারনে ব্যাংকটির এলওআই এখনও দেয়া হয়নি। কাগজপত্র আরও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এসব ঠিক হলে এলওআই ইস্যু করা হবে।

সূত্র জানায়, বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকের অনুমতি পেতে আবেদন করেছিলেন বেঙ্গল গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন। নোয়াখালী-২ আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় সংসদ সদস্য মোরশেদ আলম বেঙ্গল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও মার্কেন্টাইল ব্যাংকের পরিচালক। প্রস্তাবিত এই ব্যাংকটির পরিচালক হিসেবে রয়েছেন চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম, ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিলীপ কুমার আগারওয়াল, পোশাক খাতের ব্যবসায়ী সাহাবুদ্দিন, চট্টগ্রামের কেডিএস গ্রুপ ও ম্যাক্স গ্রুপ, পোশাক খাতের লাবিব ও শারমিন গ্রুপসহ আরও কয়েকজন ব্যবসায়ী।

আর সিটিজেন ব্যাংকের অনুমতি পেতে আবেদন করেছিলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের মা জাহানারা হক। এছাড়া পিপলস ব্যাংক পেতে আবেদন করেছিলেন প্রবাসী আওয়ামী লীগ নেতা এমএ কাশেম। চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে তার বাড়ি। যুক্তরাষ্ট্রে তার ব্যবসা রয়েছে বলে দাবি করলেও এসংক্রান্ত পর্যাপ্ত নথিপত্র কেন্দ্রীয় ব্যাংকে জমা দিতে পারেননি।

২০০৯ থেকে মহাজোট সরকারের তিন মেয়াদে এখন পর্যন্ত ১৪টি বেসরকারি ব্যাংকের প্রাথমিকসহ চূড়ান্ত অনুমোদন দিল বাংলাদেশ ব্যাংক। আওয়ামী লীগের নেতাদের পাশাপাশি নতুন ব্যাংক পেয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বাংলাদেশ পুলিশও। নতুন তিন ব্যাংকের অনুমোদনের ফলে দেশে মোট সরকারি-বেসরকারি তফসিলি ব্যাংকের সংখ্যা দাঁড়াবে ৬২টিতে। এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি ব্যাংক রয়েছে নাজুক অবস্থায়। এ পর্যন্ত বেসরকারি খাতে ব্যাংকের সংখ্যা দাঁড়াবে ৪৪টিতে।