চট্টগ্রাম বন্দরের পণ্যভর্তি ৮১ কনটেইনারের খোঁজনেই

0
170
প্রিন্ট

চট্রগ্রাম বন্দরে অবস্থিত বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে পণ্য নিয়ে আসা ৮১টি কনটেইনারের খোঁজ পাচ্ছে না চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। চট্রগ্রাম কাস্টমস ও শুল্ক গোয়েন্দাদের ধারণা, এসব কনটেইনার শুল্ক ফাঁকি দিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে বন্দর থেকে পাচার করা হয়েছে। এদিকে বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে বলছে অন্য কথা, কর্তৃপক্ষ বলছে কনটেইনারগুলো চট্টগ্রাম বন্দরে আসেনি। সংশ্লিষ্ট জাহাজে ফেরত চলে গেছে। তবে এ বিষয়ে সঠিক কোনো তথ্য উপস্থাপন করতে পারেনি বন্দর কর্তৃপক্ষ।

পণ্যভর্তি কনটেইনারগুলোর অবস্থান নিশ্চিত করতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহের মধ্যে বিষয়টি সম্পর্কে সঠিক তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন তদন্ত কমিটির সদস্যরা।

জানা গেছে, ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে বিভিন্ন দেশ থেকে পণ্য নিয়ে আসা ৮১টি কনটেইনার চট্টগ্রাম বন্দরের ইয়ার্ডে পাওয়া যাচ্ছে না। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বন্দরের কাছে এসব কনটেইনারের তথ্য চাইলে জানানো হয়, কনটেইনারগুলো ফেরত গেছে। কাস্টমস কর্তৃপক্ষের নিয়ম অনুযায়ী আমদানি পণ্যের কনটেইনার ফেরত পাঠাতে হলে তা কাস্টমসকে অবশ্যই অবহিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে তা করেনি বন্দর কর্তৃপক্ষ।

সূত্র আরও জানায়, পণ্যবাহী জাহাজ বাংলাদেশের জলসীমায় এলে ইমপোর্ট জেনারেল মেনোফেস্টো (আইজিএম) দাখিল করলে সংশ্লিষ্ট কনটেইনারের তথ্য কাস্টমস ও বন্দর দেখতে পারে। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ যাচাই-বাছাই এবং শুল্ক আদায়ের পর চালান খালাসের অনুমতি দেয়। তা দেখে বন্দর কর্তৃপক্ষ পণ্য খালাস করে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে বন্দর বলছে, তারা আইজিএমের কপি পায়নি। তাই কনটেইনারগুলো সংশ্লিষ্ট জাহাজে চলে গেছে। কাস্টমসের ভাষ্য হলো- কনটেইনার ফেরত পাঠাতে হলে তা কাস্টমসকে জানাতে হবে।

এদিকে কাস্টমস ও শুল্ক গোয়েন্দার ধারণা, কনটেইনারগুলো জালিয়াতির মাধ্যমে খালাস নেওয়া হয়েছে। এতে সংশ্লিষ্ট সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানগুলো জড়িত থাকতে পারে। এসব বিষয় খতিয়ে দেখছে তদন্ত কমিটি। চট্টগ্রাম কাস্টমসের যুগ্ম কমিশনার শরিফুল হাসান বলেন, ৮১টি কনটেইনার চট্টগ্রাম বন্দরে পাওয়া যাচ্ছে না। এ বিষয়ে বন্দরকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

তারা জানিয়েছে, সেগুলো ফেরত গেছে। তবে তথ্যের মধ্যে গরমিল পাওয়া যাচ্ছে। তাই কনটেইনারগুলোর অবস্থান শনাক্ত করতে আমরা কাজ করছি। আশা করছি, চলতি সপ্তাহের মধ্যে সুরাহা হবে।