কনটেইনার জট কমাতে চট্রগ্রাম বন্দরে ‘কনটেইনার ট্রান্সপোর্ট ট্র্যাক’ স্থাপন

0
172
প্রিন্ট

চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার জট কমাতে মাটির ওপরে শূন্যে ‘কনটেইনার ট্রান্সপোর্ট ট্র্যাক’ স্থাপন করতে প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কোম্পানি ’ঈগল রেল’। কনভেয়ার বেল্টের মতো এই ট্র্যাক মাটির ওপর দিয়ে কনটেইনার নিয়ে যাবে গন্তব্যে। ফলে বন্দরে কনটেইনার স্থানান্তরের গতি ১৫-২০ গুণ বাড়বে বলে আশা করছে মার্কিন এই কোম্পানিটি।

’ঈগল রেল’ বলছে, তারা বিশ্বের উন্নত বন্দরগুলোতে এ প্রযুক্তি সুবিধা স্থাপন করছে। অনেকটা ক্যাবল কারের মতো, চল্লিশ-পঞ্চাশ ফুট মাটির ওপরে স্টিল স্ট্রাকচারের ট্র্যাক স্থাপন করা হবে, যা দিয়ে কনটেইনার স্থানান্তর করা যাবে। এর ফলে বন্দরে আর মালবাহী ট্রাক আসা-যাওয়ার প্রয়োজন হবে না। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এই কোম্পানিটি সম্প্রতি চট্টগ্রাম বন্দরে এ ধরনের অবকাঠামো সুবিধা স্থাপনের আগ্রহ প্রকাশ করে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে চিঠি লিখেছে। ওই চিঠিতে তারা তাদের কার্যক্রম খতিয়ে দেখার জন্য বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলকেও যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার নিমন্ত্রণ জানিয়েছে।

কোম্পানিটি বলছে, বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের ইয়ার্ডে প্রচলিত পদ্ধতিতে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২০ টিইইউএস কনটেইনার স্থানান্তর করা যায়। কিন্তু তাদের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হলে ঘণ্টায় ৩০০ টিইইউএস কনটেইনার স্থানান্তর করা যাবে।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবদুস সামাদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আমরা মার্কিন কোম্পানি ঈগল রেলের কাছ থেকে একটি প্রস্তাব পেয়েছি। তারা কনটেইনার পরিবহনে বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে চায়। কোম্পানিটি বলছে, ‘কনটেইনার ট্রান্সপোর্ট ট্র্যাক’ স্থপনের ফলে বন্দর থেকে আর ট্রাকে করে কনটেইনার পরিবহনের প্রয়োজন পড়বে না। তারাই বে-টার্মিনালে কনটেইনার নিয়ে যাবে। এতে বন্দরের জট অনেকটা হ্রাস পাবে।

সূত্র জানায়, আমেরিকান কোম্পানি ‘ঈগল রেল’ এর কয়েকজন কর্মকর্তা এরই মধ্যে বেশ কয়েকবার চট্টগ্রাম বন্দর পরিদর্শন করে গেছেন। তারা কনটেইনার ট্রান্সপোর্ট ট্র্র্যাক স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই করেছেন। কোম্পানিটি প্রাথমিকভাবে বন্দরের ইয়ার্ড থেকে বে-টার্মিনাল পর্যন্ত ঈগল রেলের দুটি ট্র্যাক স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। এই দুটি ট্র্যাক দিয়ে বন্দরের কনটেইনার বে-টার্মিনালের ইয়ার্ডে নিয়ে যাওয়া হবে। ওখান থেকে সারা দেশে কনটেইনার সরবরাহ করা হবে।