তারল্য সংকট উত্তরণে ব্যাংক খাতের জন্য ‘বিচক্ষণ’ বাজেট প্রণয়ন করতে হবে: এমসিসিআই

0
182
প্রিন্ট

তারল্য সংকট থেকে উত্তরণে আগামী বাজেটে ব্যাংকিং খাতে বিশেষ নজর দেয়ার দাবি জানিয়েছে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই)। বর্তমানে সব ব্যাংক তারল্য সংকটে ভুগছে বলে মনে করে এমসিসিআই। এ অবস্থা থেকে ব্যাংকগুলোকে উত্তরণ না ঘটাতে পারলে বড় সমস্যায় পড়তে হবে। তাই ব্যাংক খাতের প্রতি বিশেষ নজর দিতে ‘বিচক্ষণ’ বাজেট প্রণয়নের পরামর্শ দিয়েছে সংগঠনটি।

গতকাল রোববার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনায় এমসিসিআই-এর পক্ষে থেকে দাবি জানানো হয়। উক্ত সম্মেলনে সভাপতিত্ব করের এনবিআরের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়ার। এছাড়াও সভায় এনবিআরের শুল্কনীতির সদস্য ফিরোজ শাহ আলম, ভ্যাটনীতির সদস্য আবদুল মান্নান সরকার, আয়কর নীতির সদস্য কানন কুমার রায়সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এমসিসিআইর পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন সংগঠনটির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি গোলাম মাইনুদ্দিন, চেম্বার কমিটির সদস্য আনিস-উদ-দৌলা, আনিস এ খান, তারেক মোহাম্মদ আলী প্রমুখ। অর্থনীতির ক্ষেত্রে বেশকিছু সমস্যা উল্লেখ করে এমসিসিআইয়ের সভাপতি নিহাদ কবিরের পক্ষে সূচনা বক্তব্য দেন গোলাম মাইনুদ্দিন। তিনি বলেন, এগুলো সমাধান করা না হলে আগামী অর্থবছরে ৮ ভাগ প্রবৃদ্ধি অর্জন ব্যাহত হবে। উচ্চ মূল্যস্ফীতির প্রবণতা একটি অন্যতম চ্যালেঞ্জ। এছাড়া সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে না। ভৌত অবকাঠামোগত দুর্বলতা রয়েছে। গ্যাস-বিদ্যুতের স্বল্পতা শিল্পোন্নয়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চলমান অর্থনৈতিক সংকট মোকাবেলায় ‘বিচক্ষণ’ বাজেট প্রণয়নের পরামর্শ দিয়ে লিখিত বক্তব্যে গোলাম মাইনুদ্দিন বলেন, বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এখনও অনিশ্চয়তা ও স্থবিরতা রয়েছে, বিশেষ করে বিদেশি বিনিয়োগ ত্বরান্বিত হচ্ছে না। দেশের উৎপাদন খাত এখনও বিভিন্ন সমস্যা মোকাবেলা করছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সরবরাহ উৎপাদনকে ব্যাহত করছে। তাই আগামী বাজেটে শিল্প ও কৃষি খাতের অবকাঠামো ও সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর জন্য শক্ত নীতি প্যাকেজ থাকতে হবে। বিদ্যুৎ খাতের জন্য উদার বরাদ্দ রাখা উচিত, যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য অপরিহার্য।

গোলাম মাইনুদ্দিন বলেন, নিত্যপ্র্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যস্ফীতির প্রেক্ষাপটে জীবন ধারণের ব্যয় বিপুল পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে বর্তমানে প্রচলিত কর অব্যাহতিপ্রাপ্ত আয়ের ঊর্ধ্বসীমা অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে পড়েছে। তাই স্বাভাবিকভাবে জীবনযাত্রার ব্যয় পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মেলানোর জন্য ব্যক্তিশ্রেণীর করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানোর আহ্বান জানান। এছাড়া চেম্বার সর্বোচ্চ করহার কমানোর দাবি জানিয়ে বলেন বর্তমানে করদাতার সর্বোচ্চ করহার ৩০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ করা হলে করদাতারা আয়কর রিটার্নে সঠিক তথ্য উপস্থাপনে উৎসাহী হবে।

আগামী বাজেটকে বিনিয়োগবান্ধব করার জন্য আয়কর, ভ্যাট ও শুল্ক আইনে সংস্কারের জন্য ৭৬ প্রস্তাব দিয়েছে এমসিসিআই। সংগঠনের পক্ষে বাজেট প্রস্তাব তুলে ধরেন ট্যারিফ, ট্যাক্সেশন কমিটির চেয়ারম্যান আদিব এইচ খান। তিনি করমুক্ত আয়ের সীমা আড়াই লাখ থেকে বাড়িয়ে সাড়ে ৪ লাখে উন্নীতকরণ, ব্যক্তিশ্রেণীর সর্বোচ্চ করহার ৩০ শতাংশ থেকে নামিয়ে ২৫ শতাংশ নির্ধারণ, সিএসআরের পূর্ণাঙ্গ ব্যয়ের ওপর কর রেয়াত, বিনিয়োগ স্কিমে অনুমোদিত বিনিয়োগের হার বৃদ্ধি, কোম্পানির বিদেশি ভ্রমণ ব্যয়ের সীমা ১ দশমিক ২৫ শতাংশ থেকে ২ শতাংশে উন্নীতকরণ, লোকসানি কোম্পানির পরামর্শ সেবায় কর অব্যাহতি, কর্পোরেট করহার কমানো, সারচার্জের সীমা বাড়ানো, ভ্যাটের স্ল্যাবভিত্তিক হার অব্যাহত রাখা, মূলধনী যন্ত্রাংশ ও মধ্যম পর্যায়ের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক কমানোর প্রস্তাব দেন।