মধুমতি মডেল টাউন প্রকল্পের পূর্বের রায়-ই বহাল থাকল

0
105
প্রিন্ট

রাজধানীর সাভারের আমিন বাজারে গড়ে উঠা মধুমতি মডেল টাউন আবাসিক প্রকল্প অবৈধ ঘোষণা করে প্রায় ৭ বছর আগের দেওয়া রায় বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। অথ্যাৎ মধুমতি মডেল টাউন আবাসিক প্রকল্প অবৈধই রইল,  বৈধতা পাওয়ার আর কোনো সুযোগ রইল না।

এই প্রকল্প অবৈধ ঘোষণা করে দেওয়া রায়ের রিভিউ চেয়ে মেট্রো মেকার্স ডেভেলপার্স লিমিটেড ও কয়েকজন প্লটমালিকের করা আবেদন খারিজ করে করে দেওয়া হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের আপিল বিভাগের বিচারপতির বেঞ্চ এ রায় দেন।

এর আগে ২০১২ সালের ৭ আগস্ট আপিল বিভাগ ওই প্রকল্প অবৈধ ঘোষণা করে রায় দিয়েছিলেন। ওই রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে মেট্রো মেকার্স ও কয়েকজন প্লটমালিক পৃথক পাঁচটি আবেদন (রিভিউ) করেন। এর শুনানি নিয়ে আজ (বৃহস্পতিবার) রিভিউ আবেদনগুলো খারিজ করে আদেশ দেওয়া হয়।

এ রায়ে প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য সাভারের বিলামালিয়া ও বৈলারপুর মৌজা এলাকায় অবস্থিত মধুমতি মডেল টাউন প্রকল্পের জায়গা আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ভরাট করা মাটি অপসারণ করে ৬ মাসের মধ্যে জলাভূমিগুলোকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য আবাসন কোম্পানি মেট্রো মেকারস অ্যান্ড ডেভেলপারস লিমিটেডকে যে নির্দেশ আপিল বিভাগ দিয়েছিলেন, তাও বহাল রইল।

রায়ে বলা হয়, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ও পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি ছাড়াই আবাসন কোম্পানি মেট্রো মেকারস অ্যান্ড ডেভেলপারস লিমিটেড আমিন বাজার এলাকায় মধুমতি মডেল টাউন প্রকল্প নামে আবাসিক এলাকা গড়ে তোলে। যা সম্পূর্ণ অবৈধ।

উল্লেখ্য যে, গত ২০০৩ সালে সাভারের আমিন বাজারে মেট্রো মেকারস অ্যান্ড ডেভেলপারস লিমিটেডের মধুমতি মডেল টাউন প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়। এ প্রকল্পের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০০৪ সালে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করে। প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত রুল জারির পাশাপাশি প্রকল্পের কাজে স্থগিতের আদেশ দেন। ২০০৫ সালের ২৭ জুলাই হাইকোর্টের রায়ে ওই প্রকল্পকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে বন্যাপ্রবাহ এলাকাকে সচল রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়। হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে মেট্রো মেকারস অ্যান্ড ডেভেলপারস লিমিটেড ও বেলাসহ অন্যরা সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আবেদন করে। এসব আবেদনের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে গতবছর ২০১২ সালের ৭ আগস্ট আপিল বিভাগ সংক্ষিপ্ত রায় ঘোষণা করেন।