গরমে শসা খাওয়ার নানাবিধ উপকার

0
190
প্রিন্ট

শশা একটি উপকারি সবজি। শশা রান্না ছাড়াই সালাদ হিসেবে বা এমনিই খাওয়া যায়। এই শশার ভেষজ গুনের শেষ নেই। সৌন্দর্য পিপাসু নারী-পুরুষেরা শশা ত্বকের যত্নে ব্যবহার করতে পারেন। এর মধ্যে ভিটামিন কে, ভিটামিন সি, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, রাইবোফ্লাভিন, বি সিক্স, ফোলেট, আয়রন, ক্যালসিয়াম, জিঙ্ক প্রভৃতি থাকে।

চলুন জেনে নেয়া যাক শশার গুণাগুণ:

পানিশূন্যতা দূর করে: সারাদিন কাজের ব্যস্ততার কারণে পর্যাপ্ত পানি পান করা হয় না। শরীরে পানির ভারসাম্য বজায় রাখতেও শসার জুড়ি নেই। শশায় ৯০ ভাগ পানি থাকায় শরীরের প্রয়োজনীয় পানির অভাব দূর করে শরীর সুস্থ রাখে।

শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে: নিয়মিত শশা খেলে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। এছাড়া যাদের গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা আছে তাদের জন্য খুবই উপকারী। ফাইবার ও ফ্লুইডে সমৃদ্ধ শশা শরীরে ফাইবার ও ওয়াটার ইনটেক বাড়াতে সাহায্য করে। গরমের দিনে শশার রসের সাথে সেলেরিরি জুস মিশিয়ে খেতে পারেন। এটা শরীরের তাপমাত্রা নরমাল রাখতে সাহায্য করবে।

ওজন কমাতে শসা: যারা ওজন কমাতে চান তাদের নিত্য-নৈমিত্তিক খাবারের মধ্যে থাকে শসা। এক বার শসা খেলে দীর্ঘক্ষণ খিদে পায় না। ফলে ওজন কমাতেও সুবিধা হয়। ১০০ গ্রাম শসার মধ্যে মাত্র ১৫.৫৪ শতাংশ ক্যালোরি থাকে।

ভিটামিনের চাহিদা পূরণ করে: শশা শরীরের ভিটামিনের চাহিদা পূরণ করে। ভিটামিন ‘এ’ ‘বি’ এবং ‘সি’র চাহিদা পূরণ করে শরীরকে শক্তিশালী করে তোলে। শশার সবচেয়ে ভালো পুষ্টি পেতে হলে সবুজ শাক এবং গাজরের সঙ্গে খাওয়া ভালো।

হজমে সহায়তা করে: শশাতে রয়েছে প্রচুর পানি এবং অল্প পরিমান ক্যালরি। শশা খেলে খাবার দ্রুত হজম হয়। প্রতিদিন শশা খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়। কারণ শশাতে আছে এরেপসিন নামের আনজাইম। আলসার গ্যাস্ট্রাইটিস, অ্যাসিডিটির ক্ষেত্রেও তাজা শশার রস উপকারী।

চোখ ভালো রাখবে: শশা গোল গোল করে কেটে চোখের ওপর ১০ থেকে ১৫ মিনিট দিয়ে রাখলে চোখের ক্লান্তি দূর হয়, সেইসঙ্গে চোখের জ্বালাপোড়া দূর করে চোখ ভালো রাখে।

ত্বকের বন্ধু: শশায় উচ্চমানের পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং সিলিকন রয়েছে, যা ত্বকের জন্য খুবই ভালো। শশা নখ ও চুলের উজ্জ্বলতা বাড়িয়ে দেয়। চুল তাড়াতাড়ি বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রনে: ভিটামিন সি, সিলিকা, পটাশিয়াম, ম্যাগনোশিয়াম ও ফাইবার হাই ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রনে রাখতে সাহায্য করে শশা। তাছাড়া শশায় রয়েছে স্টেরল নামের একধরণের উপাদান যা কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রনে রাখতে সাহায্য করে। স্টেরল মুটিয়ে যাওয়া রোধ করতেও সাহায্য করে।

সুস্থ থাকে বৃক্ক: বৃক্ক (কিডনি), ইউরিনারি ব্লাডার, লিভার ও প্যানক্রিয়াসের সমস্যায় ডায়েটে শশা রাখতে পারেন। শশা বা শশার রস ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যও উপকারী।

শরীরের ক্ষতিকর পদার্থ দূর করে: শরীরে জমে থাকা ক্ষতিকর পদার্থ দূর করে শরীর ভালো রাখে, সেইসঙ্গে কিডনি থাকে সুস্থ।