আসছে নতুন বাজেটে করের আওতা বাড়ানো হবে

0
140
প্রিন্ট

আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে করের আওতা বাড়াতে বিভিন্নমুখী পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে করের হার না বাড়িয়ে নতুন কর দাতার সংখ্যা বাড়ানোর দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ নিয়মিত করদাতাদের ওপর বোঝা না বাড়িয়ে নতুন নতুন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে করের আওতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা করছে সরকার।

জানা যায়, ব্যক্তি শ্রেণীর করদাতার সংখ্যা এক কোটিতে উন্নিত করার ব্যাপক পরিকল্পনা করা হচ্ছে। পরিকল্পনার আওতায় কর প্রদান সামর্থ ব্যক্তি খুঁজে বের করতে সারাদেশে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এর জন্য ১০ হাজার জনবল নিয়োগ দেয়া হবে। সম্পূর্ণ অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ পাওয়া এই জনবলের প্রায় সবাই হবে বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রী। তাদের প্রধান কাজ হবে আয়কর আদায়যোগ্য মানুষ খুঁজে বের করা। তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারভিত্তিক সদস্যদের আয়ের উপাত্ত সংগ্রহ করবে। পরে এই উপাত্তগুলো আয়কর অফিসে জমা দেয়া হবে। এর ওপর ভিত্তি করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড আয়কর আদায়যোগ্যদের আয়করের আওতায় নিয়ে আসবে।

নতুন জরিপের মাধ্যমে শুধু ঢাকা শহর থেকে ৩০ থেকে ৪০ লাখ নতুন আয়কর দাতা খুঁজে বের করা হবে। এর বাইরে বিভাগীয় শহর, জেলা ও উপজেলা থেকে আরও ৬০ লাখ সম্ভাব্য করদাতার খোঁজ সংগ্রহ করা হবে। এর জন্য কিছুসংখ্যক জেলা-উপজেলায় অফিস স্থাপন করা হবে। পরে পুরো দেশে এসব অফিস স্থাপন করা হবে। এসব অফিস থেকেই আয়কর আদায় ও আয়করযোগ্যদের খুঁজে বের করার কাজ পরিচালিত হবে।

সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরের বাজেটে রাজস্ব আদায়ে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দেয়া হয়েছে ভ্যাট খাতকে। ভ্যাটের পরই রয়েছে আয়কর খাত। এনবিআরের এবারের মোট রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা দুই লাখ ৯৬ হাজার ২০১ কোটি টাকা। এর মধ্যে ভ্যাট থেকে আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে এক লাখ ১০ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা। আর আয়কর থেকে আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ১ লাখ ২ হাজার ২০১ কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরে দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ এ খাতকে আরও প্রাধান্য দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে করদাতার সংখ্যা বাড়ানোর কোন বিকল্প নেই। তাই আগামী অর্থবছরের মধ্যে এক কোটি মানুষকে করের আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

গত বুধবার সাবেক গবর্নরদের সঙ্গে এক বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘দেশে চার কোটি মানুষ আয়কর দেয়ার উপযুক্ত; কিন্তু কর দিচ্ছে না। তাদের যদি আমরা আস্তে আস্তে কর নেটের আওতায় নিয়ে আসতে পারি তাহলে আমাদের রাজস্ব আহরণ অনেক বাড়বে। আগামী এক বছরে এক কোটি মানুষকে করের আওতায় নিয়ে আসা আমাদের লক্ষ্য।’ এ বিষয়ে তিনি আরও বলেন, আগামী বাজেটে করযোগ্য সবাইকে করের আওতায় নিয়ে আসা হবে। করের হার কমিয়ে আওতা বাড়ানো হবে। মুষ্টিমেয় কিছু মানুষ কর দেয়, এই অভিযোগ আর থাকবে না।

উল্লেখ্য, আগামী ১৩ জুন জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট উত্থাপন করা হবে। এবারের বাজেটের সম্ভাব্য আকার ধরা হয়েছে ৫ লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকা। এটি বর্তমান সরকারের তৃতীয় মেয়াদের প্রথম বাজেট। একই সঙ্গে নতুন অর্থমন্ত্রী হিসেবে আ হ ম মুস্তফা কামালের প্রথম বাজেট।