ছুটির পর চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার জট, চাপ বাড়ছেই

0
56
প্রিন্ট

ঈদের দীর্ঘ ছুটির পর চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ ও কনটেইনারের চাপ বেড়েই চলেছে। গতকাল সোমবার বন্দরে কনটেইনার ও জাহাজজট ছিল সর্বোচ্চ।

গতকাল সোমবার সকালে বন্দরের এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, সকাল পর্যন্ত বন্দর জেটিতে ভেড়ানোর অপেক্ষায় ২১টি কনটেইনার জাহাজ সাগরে অবস্থান করছিল, যা সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে বেশি। আর আমদানি পণ্যবাহী কনটেইনার ছিল প্রায় ৪৩ হাজারটি, যা ধারণক্ষমতার চেয়ে পাঁচ হাজার বেশি।

বন্দর চত্বরে ধারণক্ষমতার চেয়ে কনটেইনারের সংখ্যা বেশি হলে বন্দরের পরিচালন কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে আসে। একটি কনটেইনার জাহাজ থেকে নামিয়ে বন্দর চত্বরে রাখা এবং সেখান থেকে রফতানি পণ্যবাহী কনটেইনার জাহাজে তোলার কার্যক্রমও স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় লাগে। এতে করে জাহাজ থেকে কনটেইনার ওঠানো-নামানোর কার্যক্রমও ধীরগতিতে হয়।

গতকাল সকাল পর্যন্ত কনটেইনার খালাসের হার স্বাভাবিক অবস্থায় আসেনি। আগের ২৪ ঘণ্টায় কনটেইনার খালাস হয়েছে ২ হাজার ৪০৩টি। যেখানে স্বাভাবিক সময়ে খালাস হয় ৩ হাজার ৫০০টি কনটেইনার। ফলে কনটেইনারের স্তূপ জমেছে বন্দর চত্বরে।

বন্দর কর্মকর্তারা জানান, ঈদের দিন বন্দরের পুরো কার্যক্রম বন্ধ থাকায় কোনো কনটেইনার খালাস হয়নি। গতকাল পর্যন্ত ছয়দিনে কনটেইনার খালাস হয়েছে ৭ হাজার ৪৬৫টি। স্বাভাবিক সময়ে ছয়দিনে খালাস হওয়ার কথা ১৮ থেকে ২১ হাজার কনটেইনার।

গত দুই দিন থেকে কারখানা বা বাণিজ্যিক আমদানিকারকরা পণ্য খালাসের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন । এ হিসেবে পণ্য খালাসের হার বাড়বে দু-একদিনের মধ্যে।

চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (পরিবহন) এনামুল করিম বলেন, প্রায় আড়াই বছরের বেশি সময় পর গত নভেম্বর থেকে বন্দরে জাহাজজট পরিস্থিতির উন্নতি হয়। জাহাজ না থাকায় জেটিও খালি ছিল কয়েক দফায়। জাহাজ আসার সঙ্গে সঙ্গে একদিনেই জেটিতে ভেড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়। তবে ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে গত মাসের প্রথম সপ্তাহে বাড়তি সতর্কতার জন্য বন্দরের কার্যক্রম তিনদিন বন্ধ রাখা হয়েছিল। তাতে বন্দরে জাহাজের জট লেগে যায়। এ জট সামাল না দিতেই শুরু হয় ঈদের ছুটি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।