দুই হাজার এটিএম বুথের তথ্য চুরির পরিকল্পনা

0
113
প্রিন্ট

২০১৬ সালে দেশের ব্যাংকগুলোর মধ্যে আনুমানিক ২ হাজার এটিএম বুথের যন্ত্র ক্রয় করা হয় যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিষ্ঠানের নিকট হেথে। সেই সময় বুথের যন্ত্র সরবরাহকারী যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গোপন চুক্তির পরিকল্পনা করেছিল একটি হ্যাকার গ্রুপ।

তিন বছর আগে ডিবির হাতে গ্রেফতার হওয়া এক বিদেশি অপরাধী রিমান্ডে তাদের এই তথ্য দিয়েছিল। তবে সেই চুক্তি বাস্তবায়নে তারা কতটুকু সফল হয়েছে তা অনুসন্ধান করার চেষ্টা করছে ডিবি।

সূত্র জানায়, সে সময় ডিবিকে জানায়, তখন এমন একটি চুক্তির পরিকল্পনা করেছিল আন্তর্জাতিক হ্যাকার গ্রুপের সদস্যরা। চুক্তি অনুযায়ী এটিএম বুথগুলোতে অবৈধ চিপ বসিয়ে দিবে ওই প্রতিষ্ঠানটি। চিপ থাকার ফলে সেসব বুথে যেই কার্ড ঢুকানো হবে, সেই কার্ডের তথ্য সরাসরি চলে যাবে হ্যাকার গ্রুপের সদস্যদের হাতে।

গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ধারণা, ওই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন করেই একের পর এক হানা দিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে আন্তর্জাতিক হ্যাকার গ্রুপ। তবে সংখ্যাটা দুই হাজার বুথের তথ্য সত্যিই তারা নিতে পেরেছিল কি-না এ বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়।

২০১৬ সালে এটিএম ও পয়েন্ট অব সেলস (পস) মেশিন জালিয়াতির প্রথম ঘটনায় গ্রেফতার হয় আন্তর্জাতিক জালিয়াত চক্রের অন্যতম হোতা বিদেশি নাগরিক পিওটর সিজোফেন মুজারেক।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এক সপ্তাহের মিশনে আসা হ্যাকার গ্রুপের সদস্যরা আরও তিনটি ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পাওয়া গেলেও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো অর্থ চুরির বিষয়টি মুখে স্বীকার করছে না!

ভয়াবহ এই ঝুঁকি ও বাংলাদেশে হ্যাকার গ্রুপের অপতৎপরতা বন্ধে সোমবার ডিবি পুলিশের মিন্টো রোডের কার্যালয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের কর্মকর্তা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বুয়েটের বিশেষজ্ঞ টিম এবং কম্পিউটার কাউন্সিলের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এ ঘটনার পুরো রহস্য উদঘাটনে প্রযুক্তির জ্ঞানে দক্ষ একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বুথে ডিজিটাল জালিয়াতির আগাম তথ্য পেয়ে বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে সতর্ক করা হয়েছিল। ব্যাংকগুলো এসব তথ্য গুরুত্বসহকারে নিয়ে বুথের প্রযুক্তিগত আপডেট করে জালিয়াতি বন্ধে কার্যকরি ভূমিকা নিলে ভয়াবহ চুরি এড়ানো যেত।

কর্মকর্তারা আরও বলেন, হ্যাকার গ্রুপকে দ্রুত গ্রেফতার করতে পারায় তারা তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেনি। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্যাংকিং খাতের ডিজিটাল সেবার এসব ফাঁক-ফোঁকর বন্ধ করা না গেলে চরম ঝুঁকিতে পড়বে এ খাত।