আজ ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা

0
74
প্রিন্ট

আজ (১৩ জুন) বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট পেশ করা হবে। ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের এটি প্রথম বাজেট। অবশ্য গত সরকারের মেয়াদে তিনি পরিকল্পনামন্ত্রী হিসেবে বাজেট প্রণয়নে পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন।

এবারে বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। এতে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৮.২ শতাংশ। প্রস্তাবিত বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) ধরা হয়েছে ২ লাখ ২ হাজার ৭২১ কোটি টাকা।

এবারের বাজেটের রাজস্ব ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ১০ হাজার ২৬২ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতি থাকছে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা।

এবারের বাজেটে করের হার না বাড়িয়ে করের আওতা বাড়ানোর মাধ্যমে রাজস্ব আদায় বাড়ানো হবে। দেশের করদাতার সংখ্যা ২০ লাখ থেকে বাড়িয়ে ১ কোটিতে উন্নীত করার কৌশল থাকছে এবারের বাজেটে।

কাস্টমস আইন ও আয়কর আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধন এনে সহজবোধ্য ও ব্যবসাবান্ধব করা হবে। সব আমদানি-রফতানি পণ্য শতভাগ স্ক্যানিং করা হবে বলেও বাজেটে উল্লেখ থাকবে।

বাজেটে শিক্ষা খাতের সংস্কার, আর্থিক খাতের সংস্কার, শেয়ার বাজারে সুশাসন ও প্রণোদনা বিষয়ে সংস্কারমূলক দিকনির্দেশনা থাকবে। আর এসবই হবে সাধারণ মানুষের কাছে আকর্ষণীয় ও গ্রহণযোগ্য।

২০২০ সালে পালিত হবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি হবে ২০২১ সালে। এ কারণে ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ভিন্ন গুরুত্ব থাকছে।

স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশকে দারিদ্র্যমুক্ত করার ঘোষণা থাকবে এবারের বাজেটে। ২০২৫ সালের মধ্যে দেশের শতভাগ কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার। এটি করতে পারলে জাতীয় পর্যায়ে দারিদ্র্যের হার ১৬-এর নিচে নেমে আসবে বলে সরকার আশা করছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, ভ্যাট আইন কার্যকর করতে ভ্যাটের একটি স্তর ভেঙে ৫টি কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এবারের বাজেটে রাজস্ব আদায়ের প্রক্রিয়া সহজ করতে এনবিআরের জন্য নতুন দিকনির্দেশনা থাকবে।

২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। এর মধ্যে করবহির্ভূত আয় ধরা হয়েছে ৩৭ লাখ ৭১০ কোটি টাকা। নতুন বছরে মূল্যস্ফীতি ৫.৫ শতাংশের মধ্যে ধরে রাখার চেষ্টা হবে বলে বাজেটে উল্লেখ থাকছে। আসন্ন বাজেটে ঘাটতি মেটাতে অভ্যন্তরীণ সূত্র থেকে ঋণ নেওয়া হবে ৭৭ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা। বৈদেশিক সহায়তা বাবদ ঋণ নেওয়া হবে ৬৩ হাজার ৮৪৮ কোটি টাকা। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থাপনা থেকে ঋণ নেওয়া হবে ৪৭ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে নেওয়া হবে ২৭ হাজার কোটি টাকা।

শুক্রবার (১৪ জুন) বিকাল ৩টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতি সম্মেলন কেন্দ্রের কার্নিভাল হলে বাজেট-পরবর্তী সাংবাদিক সম্মেলন করবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।