শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ভেঙে ফেললো আইডিয়ালের শিক্ষকরা

0
56
প্রিন্ট

রাজধানীর ধানমন্ডি আইডিয়াল কলেজের ভেতরে মোবাইল নিয়ে আসার কারণে শিক্ষার্থীদের ৫০০ মোবাইল ফোন জব্দ করে ভেঙে ফেলেছে শিক্ষকরা। কলেজ অধ্যক্ষ জসিম উদ্দিনের নেতৃত্বে মোবাইল জব্দ করা হয়, পরে তা ভেঙে পুড়িয়ে ফেলা হয় বলে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ।

জানা গেছে, কলেজে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন আনা নিষেধ, এই নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করায় গত শনিবার (১৩ জুলাই) শিক্ষার্থীদের পাঁচ শতাধিক মোবাইল জব্দ করে ভেঙে ফেলার পর তা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হয়।

শিক্ষার্থীরা বলেন, একা একা কলেজে আসা-যাওয়া করার কারনে অনেকেই সঙ্গে ফোন নিয়ে আসে। ওই দিনও তারা ফোন নিয়ে এসেছিল। ফোন জব্দ করার পর কলেজ ছুটি হলে সেগুলো ফেরত দেয়া হবে বলে কলেজ থেকে বলা হয়। কিন্তু শিক্ষকরা ফোন জমা নিয়ে আর সেগুলো ফেরত দেননি। পরে সেগুলো ভেঙে ফেলা হয় এবং আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়া হয়।

তবে কলেজে অধ্যক্ষ জসিম উদ্দিন বলেন, কলেজে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন আনা নিষেধ- এমন নিষেধাজ্ঞা দেয়ার পরও তারা একাধিকবার তা লঙ্ঘন করেছে। গত সপ্তাহেও এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়। তারপরও তারা ফোন নিয়ে আসে।

তিনি বলেন, ‘ক্লাস চলাকালীন ফোন বেজে উঠলে শিক্ষকদের অসুবিধা হয়। এ ছাড়া অনেকে ক্লাসে বসেই ফোনে কথা বলে। এতে ক্লাসে শিক্ষকদের পড়াতে সমস্যা হচ্ছে। তাই ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের কাজ আর কেউ না করে, সেজন্য মোবাইল জব্দ করে তা পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে।’

তিনি দাবি করেন, ৫০০ মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলার বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যাচার। মাত্র কয়েকটি ফোন ভেঙে ফেলে তা পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক ড. মো. হারুন-আর-রশিদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কলেজে মোবাইল ফোন আনার অপরাধে ফোন ভেঙে ফেলা ও পুড়িয়ে ফেলা যায় না। এটা খুবই দুঃখজনক ও ন্যক্কারজনক ঘটনা। এ ধরনের কাজ করা কলেজ কর্তৃপক্ষের কোনোভাবেই উচিত হয়নি। শিক্ষার্থীদের সতর্ক করা উচিত ছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘যদি ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থী, অভিভাবকরা এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেন তবে আমলে নিয়ে তা খতিয়ে দেখা হবে।’