যেসমস্ত অভ্যাস বা খাবার লিভারের ক্ষতি সাধন করে

প্রিন্ট

মানুষের দেহে অত্যন্ত জরুরি প্রত্যঙ্গ লিভার। শরীরের যত ক্ষতিকারক টক্সিন জমে থাকে, তা শরীর থেকে ছেঁকে বের করে দেয় এই লিভার। শরীর ঠিক রাখতে চাই সুস্থ লিভার। কিন্তু আমাদেরই অসাবধানতার জন্য প্রতি মুহূর্তে দারুণ ক্ষতির হয় লিভারের। তাই এই অঙ্গকে সুস্থ রাখা আমাদের কাছে অতি প্রয়োজনীয় একটা কাজ।

কিন্তু আমাদের অজান্তেই বেশ কয়েকটি অভ্যাস লিভারের মারাত্মক ক্ষতি করে চলছে। তাই সময়মতো সতর্ক না হলে, অকালেই লিভার তার স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলবে।

যে অভ্যাসগুলো লিভারের ক্ষতি করে-

সকালে দীর্ঘক্ষন খালিপেটে থাকা: সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর দীর্ঘক্ষণ কিছু না খেয়ে থাকার অভ্যাস লিভারের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। দীর্ঘদিন ধরে এই অনিয়ম চলতে থাকলে লিভার তার স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।

পায়খানা-প্রস্রাব চেপে রাখা: অনেকেই সকালে ঘুম থেকে জাগার পরও অলসতার কারণে পায়খানা-প্রস্রাব চেপে রেখেই শুয়ে থাকেন। এই অভ্যাসও লিভারের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকর।

কাঁচা খাবার খাওয়া: অতিরিক্ত পরিমাণে কাঁচা খাবার-দাবার খাওয়ার অভ্যাসও লিভারের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। যদি অতিরিক্ত পরিমাণে ফলমূল বা কাঁচা সবজি খাওয়া হয়, সে ক্ষেত্রে এগুলো হজম করাতে পরিপাকতন্ত্রের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। যার প্রভাব পড়ে আমাদের লিভারের ওপরেও।

রাতের খাবার খেয়েই ঘুমানো: রাতের খাবার খাওয়ার সাথে সাথেই ঘুমোতে যাওয়া লিভারের পক্ষে ক্ষতিকর। এই অভ্যাসের ফলে হজমের নানা সমস্যাসহ শরীরের একাধিক সমস্যা সৃষ্টি হয়। ফলে লিভার মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়।

মাত্রাতিরিক্ত ওষুধ সেবন: অতিরিক্ত পরিমাণে ওষুধ খেলে লিভার নষ্ট হয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে অতিরিক্ত পরিমাণে ব্যথানাশক ওষুধ খেলে লিভারের কর্মক্ষমতা ক্রমশ হ্রাস পায়। এ ছাড়াও ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

অ্যালকোহল জাতিয় খাবার: অতিরিক্ত পরিমাণে মদ্যপানের অভ্যাস থাকলে অল্প বয়সে লিভার নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কারণ মাদকে ব্যবহৃত অ্যালকোহল লিভারের মারাত্মক ক্ষতি করে।

তৈলাক্ত বা মশলাযুক্ত খাবার: খারাপ তেলে ভাজা কোনো খাবার বা অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার লিভারের জন্য খুবই ক্ষতিকর। দীর্ঘদিন ধরে এই ধরনের খাবার খাওয়ার অভ্যাস থাকলে লিভার তার স্বাভাবিক কর্মক্ষমতাও হারিয়ে ফেলতে পারে।

পরিমাণে বেশি খাওয়া: পরিমাণের চেয়ে বেশি খাওয়ার অভ্যাসও লিভারের পক্ষে ক্ষতিকর। পছন্দের রান্না হয়েছে বলে অনেকেই দৈনন্দিনের তুলনায় অনেক বেশি পরিমাণে খেয়ে ফেলেন। এর ফলে হঠাৎ করে লিভারের ওপরে বেশি চাপ পড়ে এবং লিভার হারিয়ে ফেলে তার স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা।

রাসায়নিক বা রং যুক্ত খাবার: রাসায়নিক মিশ্রিত খাদ্য, কৃত্রিম রং যুক্ত যেকোনো খাবারই আমাদের লিভারের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। কৃত্রিম রং বা স্বাদযুক্ত খাবার আমরা অনেকেই নিজের অজান্তে খেয়ে থাকি। এসব খাবার নিয়মিত খাওয়ার ফলে এগুলোর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

লিভার সুস্থ রাখতে মাংসের চেয়ে শাকসবজি খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। ভিটামিন সি, ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স, ওমেগা থ্রি, অ্যামিনো অ্যাসিড লিভার সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। এ ছাড়া রসুন, নাসপাতি, বিট, গাজর, সবুজ চা, সবুজ শাক, অলিভের তেল, লেবু, বাঁধাকপি ও হলুদ লিভারের জন্য অত্যন্ত উপকারী। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত কফি খেলে লিভারের অসুখ ১৪ শতাংশ কমে। তবে কফি হতে হবে লো ফ্যাট ও লো কার্বোহাইড্রেট যুক্ত।