ই-পাসপোর্ট চালু নিয়ে জটিলতা

প্রিন্ট

চলতি জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট (ই-পাসপোর্ট) উদ্বোধনের ঘোষণা দেওয়ার কথা থাকলেও তা চালু করা নিয়ে বেশ জটিলতা দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, প্রকল্প বাস্তবায়নে জার্মানির প্রতিষ্ঠান ভেরিডোসের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে সংকট, ই-গেট স্থাপনের কাজে মন্থরগতি, নীতিমালা এবং ফি নির্ধারণ চূড়ান্ত না হওয়ায় ঝুলে গেছে এ বায়োমেট্রিক পাসপোর্ট প্রকল্পের কাজ। বর্তমানে ১১৯টি দেশের নাগরিকগণ ই-পাসপোর্ট ব্যবহার করলেও বাংলাদেশে কবে নাগাদ এ ই-পাসপোর্ট চালু হবে তা নির্দিষ্ট করে বলতে পারছেন না সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে ই-পাসপোর্ট প্রবর্তন ও স্বয়ংক্রিয় বর্ডার কন্ট্রোল ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইদুর রহমান খান জানান, জুলাই থেকেই ই-পাসপোর্ট বিতরণ করার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের সময় পিছিয়ে গেছে। তিনি বলেন, আমরা ই-পাসপোর্টের ফি সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি।

পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল মো. সোহায়েল হোসেন খান বলেন, ই-পাসপোর্ট চালুর জন্য প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করা হচ্ছে। চালুর দিনক্ষণ বলতে পারছি না। তবে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালে ৪ হাজার ৫৬৯ কোটি টাকা খরচে ই-পাসপোর্ট প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। গত বছরের জুলাই মাসে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ ও জার্মানের সঙ্গে ই-পাসপোর্ট ও অটোমেটেড বর্ডার কন্ট্রোল ব্যবস্থাপনা বিষয়ক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। জার্মানির ভেরিডোস কোম্পানির সঙ্গে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর জিটুজিরভিত্তিতে টার্ন কী পদ্ধতিতে বাস্তবায়ন করার সিদ্ধান্ত হয়। চুক্তি অনুযায়ী জিটুজি প্রকল্পের আওতায় জার্মানের ভেরিডোস কোম্পানি তিন কোটি ই-পাসপোর্ট বুকলেট সরবরাহ করবে।

ঢাকার উত্তরায় বুকলেটের জন্য একটি অ্যাসেম্বলি কারখানা স্থাপন করা হয়েছে। যাতে বুকলেটের খরচ অর্ধেকেরও কম হবে। তারা সব সফটওয়্যার, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক ১০ বছরের জন্য রক্ষণাবেক্ষণ সেবা প্রদান করবে। চুক্তি অনুযায়ী পাসপোর্টের ইলেকট্রনিক চিপে ১০ আঙুলের ছাপ থাকার কথা। তবে ভেরিডোস মাত্র দুটি আঙুলের ছাপ সংরক্ষণ করতে চাচ্ছে। এতে রাজি নয় পাসপোর্ট অধিদপ্তর। তারা বলছেন, মাত্র দুই আঙুলের ছাপে ভবিষ্যতে জালিয়াতি হতে পারে, এটা নিরাপত্তার জন্য যথেষ্ট নয়। এ নিয়ে জার্মান প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক ও চিঠি চালাচালি হলেও এখনো সমস্যার সমাধান হয়নি।

ই-পাসপোর্ট কার্যকর করতে স্বয়ংক্রিয় সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা বা ইলেকট্রনিক গেট (ই-গেট) স্থাপন জরুরি। মোট ৫০টি ই-গেট স্থাপনের কথা থাকলেও দেশের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও দুইটি স্থলবন্দরেও ই-গেট স্থাপনের কাজ শেষ হয়নি।

জানা গেছে, এখনো নির্ধারণ করা হয়নি ই-পাসপোর্ট ফি। এমনকি কীভাবে এর ব্যবহার হবে, তার প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়নি ইমিগ্রেশন পুলিশকে। ই-পাসপোর্ট ফি পুরোপুরি চূড়ান্ত না হলেও প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, ন্যূনতম ৬ হাজার টাকায় একজন নাগরিক ২১ কার্যদিবসের মধ্যে পাসপোর্ট পাবেন। এছাড়াও সাত দিনের এক্সপ্রেস ডেলিভারির জন্য ১২ হাজার এবং একদিনের সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারির জন্য ১৫ হাজার টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। পুরোপুরি প্রস্তুত হলে দিনে ২৫ হাজার পাসপোর্ট প্রিন্ট করা সম্ভব হবে।