ডেঙ্গুজ্বর নিরাময়ে পেঁপে পাতার রস

প্রিন্ট

ডেঙ্গু জ্বর হল ভাইরাসজনিত এক ধরনের তীব্র জ্বর। এ জ্বরের বাহক এডিস মশা। এডিস মশা ডেঙ্গুর জীবাণু বহন করে থাকে। তবে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পেঁপে পাতার রস কার্যকরী ভূমিকা পালন করে বলে জানা যায়।

স্বাস্থ্যকর ফলের মধ্যে অন্যতম হলো পেঁপে। পেঁপে কাঁচা-পাকা দুভাবেই খাওয়া যায়। নানা পুষ্টি উপাদান বিদ্যমান থাকায় রোগ নিরাময়ে এর তুলনা হয় না।

পেঁপের পাতা শরীরে প্লেটলেটের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য সুপরিচিত। এ ছাড়া এতে অ্যান্ট-ম্যালেরিয়াল বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা ডেঙ্গুজ্বর প্রতিরোধে কার্যকারী ভূমিকা রাখে।

পেঁপে পাতার রস কিভাবে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাহায্য করে:-

ডেঙ্গু রোগীর শরীরে প্লেটলেটের সংখ্যা বাড়ায়: ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীদের প্লেটলেট সংখ্যা বাড়াতে সাহায্য করে পেঁপে পাতার রস। গবেষণায় দেখা গেছে, ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত ৪০০ রোগীকে মানসম্মত চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল। তাদের মধ্যে অর্ধেকের ডেঙ্গু ছিল নিয়ন্ত্রণে। কারণ ট্যাবলেট আকারে তাদের পেঁপে পাতার রসের একটি নির্দিষ্ট ডোজ দেওয়া হয়েছিল। গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব রোগীকে পেঁপে পাতার রস দেওয়া হয়েছিল তাদের ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ছিল। তাদের শরীরে প্লেটলেটের সংখ্যারও উন্নতি হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের রক্ত পরিবর্তনেরও প্রয়োজন হয়নি।

ডেঙ্গুর লক্ষণগুলো কমিয়ে আনে: অনেক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডেঙ্গু জ্বরের চিকিৎসার কার্যকর প্রতিকার হিসেবে পেঁপে পাতার রস খাওয়ার পরামর্শ দেন। এই মারাত্মক রোগটি এডিস মশার কারণে হয়ে থাকে। ফলে অনেক জ্বর, ত্বকের ফুসকুড়ি এবং প্লেটলেট সংখ্যা কমে যায়। তবে পেঁপে পাতার রস ডেঙ্গুর এসব লক্ষণ কমাতে সহায়তা করে।

শক্তিশালী অ্যান্টি-ম্যালেরিয়াল বৈশিষ্ট্য: পেঁপের পাতায় শক্তিশালী অ্যান্টি-ম্যালেরিয়াল বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা ডেঙ্গুজ্বর নিরাময়ে কার্যকর ভূমিকা রাখে। এতে অ্যাসেটোজেনিন নামে এমন এক ধরনের যৌগ রয়েছে, যা ম্যালেরিয়া এবং ডেঙ্গুর মতো রোগগুলো প্রতিরোধে সহায়তা করে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়: পেঁপে পাতায় ফেনলিক যৌগ, পেপেইন, অলকালয়েড এবং শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট নামে এমন কিছু উপাদান রয়েছে, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এ ছাড়া পেপেইন এবং অন্য যৌগের সংমিশ্রণটি প্রয়োজনীয় প্রোটিনগুলো কার্যকরভাবে হজম করতে সহায়তা করে। এর ফলে হজম সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যা দূর হয়।

পেঁপে পাতার রস তৈরির নিয়ম:

প্রথমে পেঁপে গাছের কচি পাতা সংগ্রহ করে বেটে বা ব্লেন্ড করে ছেঁকে নিতে হবে। ছেঁকে নেয়ার পর এ রস একজন প্রাপ্তবয়স্ক রোগীকে ১০ মিলি লিটার করে ০৮ ঘণ্টা পরপর দিনে দু’বার করে খেতে দিতে হবে। ৫-১২ বছর বয়সী শিশু রোগীদের ক্ষেত্রে ০৫ মিলি লিটার করে ০৮ ঘণ্টা পরপর দিনে দু’বার করে খেতে দিতে হবে।

পাঁচ বছরের নিচের শিশুদের জন্য ২.৫ মিলি লিটার করে ০৮ ঘণ্টা পরপর দিনে দু’বার করে খেতে দিতে হবে। তবে একটি বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন, তৈরি করা পেঁপে পাতার রসের সঙ্গে কোনো প্রকার লবণ বা চিনি মেশানো যাবে না।