শরীরের কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখবেন যেভাবে

প্রিন্ট

চর্বিযুক্ত খাবার খেয়ে শরীরে জমে বাড়তি কোলেস্টেরল। যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। কোলেস্টেরল ধমনির দেয়ালে জমাট বেঁধে রক্ত চলাচলে বাধা দেয়। ফলে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদপিণ্ডের নানা ধরনের অসুখ, হার্ট অ্যাটাক ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয়।

হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘খাবারের মাধ্যমে মাত্রাতিরিক্ত কোলেস্টেরল শরীরে গেলেই বিপদ। বেশি করে শর্করা খাদ্যগ্রহণ করলে তা পরিবর্তিত হয় ফ্যাটে। দেহকোষগুলো তখন বেশি পরিমাণে কোলেস্টেরল তৈরি করে। এই কোলেস্টেরলের একটা বড় অংশ ধমনীর প্রাচীরে জমা হয় ও রক্তের প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে।’

তাদের মতে, ‘এই ডিজিজ নিয়ন্ত্রণও করা যায় রুটিনের কিছুটা অদলবদল ঘটিয়েও। সারা দিনের কাজে কিছু জরুরি পদক্ষেপ করা, কিছু ভুল বাদ দেয়া এই সমস্যাকে নিয়ন্ত্রণে রাখার উপায়।’

একজন সুস্থ মানুষের রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা হওয়া উচিত প্রতি ডেসিলিটারে ১৬০ মিলিগ্রামেরও কম। কিছু কিছু অভ্যানের পরিবর্তন আনলে খারাপ কোলেস্টেরলকে শরীর থেকে সহজেই ছেঁটে য়ায়।

চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক কি কি নিয়ম মেনে চললে কোলেস্টেরলকে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়-

– চর্বি জাতীয় মাংস, পাম তেল, ডালডা, নারকেল, ডিমের কুসুম, মাখন, ঘি, কাজু বাদাম ইত্যাদি থাবার পরিহার করতে হবে। কম তেল-মশলা হার্টের পক্ষে যেমন ভাল, তেমনই তা কোলেস্টেরলের মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণে রাখে।

– অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট ও ফাইভার সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। শাক-সবজি, তরি-তরকারি, ফল, তার সঙ্গে অত্যাবশ্যক ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবারও।

– দোকান থেকে কোনও খাবার ক্রয়ের আগে অবশ্যিই প্যাকেট গায়ে লেখা খাদ্যের পুষ্টিগুণ দেখে নিন। কতটা ফ্যাট শুধু তা দেখলেই হবে না, কতটা ট্রান্স ফ্যাট তা-ও দেখতে হবে। ট্রান্স ফ্যাট থেকেও শরীরে জমে কোলেস্টেরল।

– ওজন অনুপাতে আপনার শরীরের কতটা পানি প্রয়োজন তা কোনও পুষ্টিবিদের কাছ থেকে জেনে নিন। তারপর নিয়ম মেনে প্রতিদিন পানি পান করুন। শরীরের টক্সিন সরাতে পানি তুলনা হয় না। যে কোনও হার্টের অসুখ ৫০-৬০ শতাংশ কমিয়ে দিতে পারে উপযুক্ত পরিমাণ পানি পানে।

-শরীরের ট্রাইগ্লিসারাইডকে নিয়ন্ত্রণ ও কোলেস্টেরলকে রুখতে চাইলে প্রতিদিন একমুঠো। আমন্ড, বালিতে ভাজা বাদাম মিশিয়ে ২৫ গ্রাম ওজনের মতো নিন। বিকেলের টিফিনে খান তা। বাদাম শরীরে ভালো কোলেস্টেরলকে বাড়ায়।