আজ বিমানের ৩য় বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার গাঙচিল-এর উদ্বোধন

প্রিন্ট

আজ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে সদ্য যুক্ত হওয়া বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি সম্বলিত সম্পূর্ণ নতুন ৩য় বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার ‘গাঙচিল’ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিভিআইপি টার্মিনালে অনুষ্ঠিত হবে। উদ্বোধনের পর বিকাল ০৫:৩০ মিনিটে বিজি-০২৭ ফ্লাইটে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আবুধাবি যাওয়ার মধ্য দিয়ে ড্রিমলাইনার ‘গাঙচিল’ তার বাণিজ্যিক যাত্রা শুরু করবে।

২৫ জুলাই, ২০১৯ দেশে আসে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ৩য় বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার ‘গাঙচিল’। কোন রকম যাত্রা বিরতি ছাড়াই সিয়াটল থেকে সরাসরি ঢাকায় এসে অবতরণ করে গাঙচিল। এর মধ্যে দিয়ে বিমান বহরে উড়োজাহাজের সংখ্যা দাঁড়াল ১৫টি। টানা ১৬ ঘন্টা উড়তে সক্ষম এই ড্রিমলাইনার চালাতে অন্যান্য বিমানের তুলনায় ২০ শতাংশ কম জ্বালানী লাগবে। গাঙচিল এর আসন সংখ্যা ২৭১টি, এর মধ্যে বিজনেস ক্লাস ২৪টি এবং ২৪৭টি ইকোনমি ক্লাস। বিজনেস ক্লাসের ২৪টি আসন ১৮০ ড্রিগ্রি পর্যন্ত রিক্লাইন্ড সুবিধা এবং সম্পূর্ণ ফ্ল্যাটবেড হওয়ায় যাত্রীরা আরামদায়ক ও স্বাচ্ছন্দ্যের সাথে ভ্রমণ করতে পারবেন ।

প্রতিটি আসনের সামনে প্যানাসনিক এলইডি এস-মনিটর রয়েছে। একই সঙ্গে ড্রিমলাইনারের ইন-ফ্লাইট এন্টারটেইনমেন্ট সিস্টেমে (আইএফই) থাকবে ১০০টির বেশি ক্ল্যাসিক থেকে ব্লকবাস্টার চলচ্চিত্র। অত্যাধুনিক বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৪৩ হাজার ফুট উপর দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময়ও ওয়াইফাই সুবিধা পাবেন যাত্রীরা। বিমানে ওয়াইফাইয়ের মাধ্যমে প্রত্যেক যাত্রী ১৫ মিনিটের জন্য বিনামূল্যে ১০ মেগাবাইট ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ২০০৮ সালে মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং কোম্পানির সংগে ১০টি নতুন বিমান ক্রয়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয় এর মধ্যে ৪টি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ইআর, ২টি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ এবং ৪টি ড্রিমলাইনার ৭৮৭-৮। ইতোমধ্যে বিমান বহরে যুক্ত হয়েছে ৪টি নতুন বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর, ২টি নতুন বোয়িং ৭৩৭-৮০০ এবং আজকেরটিসহ বিমান বহরে বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনারের সংখ্যা দাঁড়াল ০৩টি । ৪র্থ এবং শেষ বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার ‘রাজহংস’ আগামী মাসে বিমান বহরে যুক্ত হবে।

উল্লেখ্য, বিমান বহরে যুক্ত হওয়া ১০টি বোয়িং উড়োজাহাজের সবগুলোর নাম বাছাই করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এগুলো হলো পালকি, অরুণ আলো, আকাশ প্রদীপ, রাঙা প্রভাত, মেঘদূত, ময়ূরপঙ্খী, আকাশবীণা, হংসবলাকা, গাঙচিল ও রাজহংস।