আগামী বছর এপ্রিলে সরাসরি সিলেট-লন্ডন ফ্লাইট চালু

প্রিন্ট

আগামী বছর এপ্রিলে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সিলেট-লন্ডন সরাসরি ফ্লাইট চালু করা হবে। সিলেটবাসীর দীর্ঘদিনে স্বপ্ন অবশেষে পূরণ হতে যাচ্ছে। এটি হলে লন্ডনে বসবাসরত সিলেটবাসী ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকেই লন্ডনে যেতে পারবে।

বর্তমানে সিলেটবাসীকে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে লন্ডনে যেতে হয়।

বৃহত্তর সিলেটের যাত্রীদের দীর্ঘদিনের দাবি লন্ডনের সঙ্গে সরাসরি ফ্লাইট। লন্ডনে যাতায়াতকারী সিলেটের অরকন চৌধুরীসহ কয়েকজন যাত্রী বলেন, সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমানের লন্ডনগামী ফ্লাইট চালু হলে তাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হবে। এতে সময় ও বিভিন্ন ঝামেলা থেকে রক্ষা পাবেন লন্ডনগামী বৃহত্তর সিলেটের যাত্রীরা।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, সিলেট-লন্ডন সরাসরি বিমানের ফ্লাইট চালুর লক্ষ্যে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ অবকাঠামো সম্প্রসারণে কাজ করছে বেবিচক। এরই মধ্যে বিমানবন্দর ঢেলে সাজানোর কার্যক্রম দ্রুতগতিতে চলছে। প্যাসেঞ্জার ও কার্গো পরিবহন বেড়ে যাওয়ায় বেবিচক প্রায় ৩৫ হাজার বর্গমিটারের অত্যাধুনিক আন্তর্জাতিকমানের টার্মিনাল ভবন নির্মাণ সম্পন্ন করতে যাচ্ছে। কার্গো ভবন, কন্ট্রোল টাওয়ার, পার্কিং, ট্যাক্সিওয়েসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নির্মাণে ২ হাজার ৪৫৯ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে।

এখনও সিলেট থেকে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে ঢাকায় যাত্রীদের আনার পর সরাসরি ফ্লাইট লন্ডনের উদ্দেশে রওনা হয়। সুপরিসর রানওয়ে না থাকায় লন্ডনে সরাসরি বিমানের ফ্লাইট চালু করতে পারছিল না বেবিচক।

সূত্র জানায়, বর্তমানে বিমানবন্দরে ১২ হাজার ১০০ বর্গমিটারের একটি টার্মিনাল ভবন, ৭৫০ বর্গমিটারের কার্গো ভবন ও একটি রানওয়ে রয়েছে। পাশাপাশি দুটি ট্যাক্সিওয়ে, চারটি ছোট ও দুটি বড় প্লেন পার্কিং সুবিধাসহ শেড, দুটি বোর্ডিং ব্রিজ, দুটি এস্কেলেটর আছে। কিন্তু যাত্রী পরিবহনে এগুলো যথেষ্ট নয়। তাই কার্গো ও যাত্রী পরিবহনে হিমশিম খাচ্ছেন সংশ্নিষ্টরা। যে কারণে লন্ডনে সরাসরি ফ্লাইট চালু করা সম্ভব হচ্ছে না।

১৯৯৮ সালের ডিসেম্বরে ওসমানী বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা হয়। এরপর এখান থেকে যুক্তরাজ্যের হিথ্রো বিমানবন্দরে বাংলাদেশ বিমানের সরাসরি ফ্লাইট চালু হলেও ২০১৪ সালে কুয়াশার অজুহাত দেখিয়ে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়।