যেসব কারণে দেশের বাজারে বাড়ছে সোনার দাম

প্রিন্ট

বিশ্ববাজারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে প্রতিনিয়ত দেশে সোনার দাম বাড়ছে। দেড় মাসে স্বর্ণের পাঁচ দফা দাম বেড়েছে। সর্বশেষ সোমবার (১৯ আগস্ট) ২২ ক্যারেটের সোনা ভরিপ্রতি ১ হাজার ১৬৭ টাকা বেড়ে ৫৬ হাজার ৮৬২ টাকা হয়েছে।

অন্যদিকে, ১৩ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স সোনার দাম এক হাজার ৫২৫ ডলার ৯৯ সেন্ট উঠে, যা ছয় বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভবিষ্যৎ সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি আউন্স সোনা এক হাজার ৫৩৭ ডলারে বেচাকেনা হয়।

আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, মার্কিন-চীন বাণিজ্যযুদ্ধের ফলে অনিশ্চয়তা, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সোনা কেনার হিড়িক, ডলারের দাম পড়ে যাওয়া, বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারে অস্থিরতা এবং হংকংয়ে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা- এই সব কারণে বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ ক্ষেত্র মনে করে সোনা কিনছেন। এতে চাহিদায় বাড়তি চাপ পড়ায় ধাতুটির দাম বাড়ছে।

বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) দেশে সোনার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার আগরওয়ালা জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম বাড়ছে তাই তাদেরও দাম বাড়াতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে বছরের শুরু থেকে পর্যায়ক্রমে আউন্সপ্রতি দাম বেড়েছে আড়াইশ’ ডলার। বাংলাদেশি টাকায় প্রায় একুশ হাজার টাকা। ভরিপ্রতি বেড়েছে আট হাজার টাকা। কিন্তু আমরা একবারে না বাড়িয়ে পর্যায়ক্রমে বাড়াচ্ছি।’

দেশের বাজারে দেড় মাসে সোনার দাম বেড়েছে পাঁচবার। এর মধ্যে চলতি মাসের ২৩ দিনেই বেড়েছে তিন দফা। ৭ আগস্ট বাজুস সোনার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয়, যা কার্যকর হয় ৯ আগস্ট থেকে।

এর আগে ৫ আগস্ট আরেক দফা দাম বাড়ানো হয়। সে সময় ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা ৫৪ হাজার ৫২৯ টাকা, ২১ ক্যারেট ৫২ হাজার ১৯৬ এবং ১৮ ক্যারেট ৪৭ হাজার ১৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

সর্বশেষ ১৯ আগস্ট দাম বাড়ানো হয়। তখন থেকে ভরিপ্রতি ২২ ক্যারেট সোনা বিক্রি হচ্ছে ৫৬ হাজার ৮৬২ টাকায়।

জুলাই মাসে সোনার দাম দুই দফা বাড়ানো হয়। জানুয়ারি মাসেও দু’দফায় দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিল বাজুস। ওই মাসে ২২ ক্যারেটের সোনার দাম ভরিপ্রতি ৪৮ হাজার ৯৮৮ টাকা ছিল। বর্তমানে ভরিতে প্রায় সাত হাজার টাকা বেড়েছে।

বাজুসের সাধারণ সম্পাদক জানান, চীন-যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক স্বর্ণের বাজারে। চীনের নানা ধরনের পণ্যের ওপর ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করল, তখন চীন ডলার ছেড়ে দিয়ে সোনার রিজার্ভ বাড়িয়ে দেয়। এরফলে ডলারের দরপতন হয়। চীন সোনা কেনায় আন্তর্জাতিক বাজারে এই ধাতুটির সংকট তৈরি হয়ে দাম বাড়তে থাকে।