এ বছর থেকেই সর্বস্তরের পাবলিক পরীক্ষায় জিপিএ-৪ চালু

প্রিন্ট

প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত শিক্ষার সব স্তরেই পাবলিক পরীক্ষায় এ বছর থেকেই জিপিএ-৫ এর পরিবর্তে জিপিএ-৪ চালু হচ্ছে। নতুন গ্রেডিং পদ্ধতি নির্ধারণে শিক্ষার সাথে সংশ্লিষ্টরা সবাই একমত পোষণ করেছেন। নতুন এ পদ্ধতিতে সর্বোচ্চ নম্বর ৮০ থেকে ১০০ পর্যন্ত জিপিএ-৪ হচ্ছে এবং ৩২ নম্বরকে ‘এফ’গ্রেড করা হয়েছে। এতে জেএসসি থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত একই গ্রেডিং পদ্ধতি বাস্তবায়ন করা হবে।

গতকাল আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত গ্রেড পরিবর্তন সংক্রান্ত এক কর্মশালায় এ ব্যাপারে মত দিয়েছেন শিক্ষার সাথে সংশ্লিষ্টরা। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা: দীপু মনি।

পাবলিক পরীক্ষায় গ্রেড পরিবর্তন কমিটির সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক অধ্যাপক শাহাদাত হোসেন নতুন গ্রেড পদ্ধতি উপস্থাপন করেন। এরপর সকলের সম্মতিতে খসড়া প্রস্তাবনা চূড়ান্ত করা হয়। তবে এ সংক্রান্ত আরো দুই-একটি সেমিনার ও মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হবে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে। প্রাথমিক স্তরের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায়ও এ পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে বলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে বলা হয়েছে।

গ্রেড পরিবর্তন প্রস্তাবনায় হয়েছে, জেএসসি-জেডিসি, এসএসসি-সমমান, এইচএসসি-সমমান পরীক্ষায় নম্বরের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ জিপিএ-৪ করা হবে। এ ক্ষেত্রে ৯০ থেকে ১০০ পর্যন্ত ‘A+’ বা জিপিএ-৪, ৮০-৮৯ পর্যন্ত ‘A’৭০-৭৯ ‘B+’, ৬০-৬৯ ‘B’৫০-৫৯ ‘C+’৪০-৪৯ ‘C’৩৩-৩৯ ‘D এবং শূন্য থেকে ৩২ ‘F’গ্রেড বা ফেল নির্ধারণ করা হয়েছে।

সভা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক শাহাদাত হোসেন সংবাদিকদের বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রেডিং পদ্ধতির সাথে সমন্বয় রেখে নতুন জিপিএ পদ্ধতি বাস্তবায়ন করা হবে। এটি বহির্বিশ্বের সাথেও সমন্বয় থাকছে। বর্তমান গ্রেডিং দেশের উচ্চশিক্ষার সাথে এবং বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে গিয়ে শিক্ষার্থীরাও নানা সমস্যায় পড়ছে।

চলতি বছর জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি-জেডিসি) পরীক্ষা থেকে জিপিএ-৪ পদ্ধতি বাস্তবায়ন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা থেকে নতুন পদ্ধতি কার্যকর করা হবে জুনিয়ন স্তরে।

সভায় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, যেহেতু এটি একটি বড় কর্মযজ্ঞ, তাই এটি চূড়ান্ত করার আগে আরো দুই-একটি সভা করা প্রয়োজন। বিশ্বের সাথে সমন্বয় রেখে গ্রেড পদ্ধতি পরিবর্তন করা হচ্ছে। কোনো পরিবর্তনের ফলে কেউ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো: সোহরাব হোসেন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক মো: সৈয়দ গোলাম ফারুক, শিক্ষাবিদ, মাদরাসা অধিদফতরের মহাপরিচালক সফিউদ্দিন আহমেদ, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডর চেয়ারম্যান অধ্যাপক কায়সার আহমেদ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সভায় উপস্থিত ছিলেন।