ভেজাল মশলা সনাক্ত করবেন যেভাবে

প্রিন্ট

মুনাফালোভী একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী মশলায় কাপড়ে ব্যবহৃত বিষাক্ত রঙ, ধানের তুষ, ইট ও কাঠের গুঁড়া, নষ্ট মটর ডাল ও সুজি ইত্যাদি মেশাচ্ছে। এসব ভেজাল মশলা দিয়ে তৈরি খাদ্যদ্রব্য ক্যান্সার, কিডনি ও লিভারের রোগ সৃষ্টির জন্য দায়ী।

মসলার রঙ আকর্ষণীয় করতে বিশেষ ধরনের কেমিক্যাল রঙ মেশানো হচ্ছে। এর কারণে গুঁড়া মরিচের ঝাল বাড়ে এবং হলুদের রং আরও গাঢ় হয়। মশলার ওজন বৃদ্ধির জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে ধানের ভুসি।

মশলা ছাড়াও আমরা যে পানীয় খাই যেমন চা, কপি, আইসক্রিম এগুলোতেও ব্যবহার করা ভেজাল পদার্থ।

খাদ্য তৈরির আগে এর উপকরণে ভেজাল আছে কিনা তা শনাক্ত করা খুবই জরুরি। কিছু কৌশলের মাধ্যমে আপনি বুঝবেন এসব উপকরণে ভেজাল আছে। এবার তা জেনে নিন-

– মরিচের গুঁড়ার ভেজাল শনাক্ত করার জন্য ১ গ্লাস পানিতে ১ চামচ মরিচের গুঁড়া মেশান। যদি পানির রঙ পরিবর্তিত হয়ে যায় তাহলে বুঝতে হবে যে এই মরিচে ভেজাল আছে।

– হলুদের গুঁড়ার ভেজাল নির্ণয়ের জন্য একটি টেস্ট টিউবে এর কিছু গুঁড়া নিয়ে এর মধ্যে কয়েক ফোঁটা গাড় হাইড্রোক্লোরিক এসিড দিন। যদি হলুদের রঙ গোলাপি, রক্তবর্ণ বা বেগুনী হয় তাহলে নিশ্চিতভাবেই বোঝা যাবে এতে ভেজাল আছে।

– কাঁচা মরিচ বা সবুজ সবজির ভেজাল নির্ণয়ের জন্য প্যারাফিনের মধ্যে সামান্য তুলা ভিজিয়ে রাখুন। তারপর এই তুলা দিয়ে মরিচের একটি অংশ অথবা সবজির এক অংশে লাগিয়ে ঘষুন। যদি তুলাটি সবুজ হয়, তবে বুঝে নিবেন এতে কৃত্রিম সবুজ রঙ মেশানো হয়েছে।

– ঘি-য়ের ভেজাল নির্ণয় করতে একটি টেস্ট টিউবে ১ মিলিলিটার পানি নিয়ে এর মধ্যে ০.৫ গ্রাম ঘি মেশান এবং মিশ্রণটিতে তাপ দিন। ঠাণ্ডা হওয়ার পরে এর মধ্যে ১ ফোঁটা আয়োডিন যোগ করুন। যদি এর রঙ নীল হয়ে যায় তাহলে বুঝে নিবেন এটা ভেজাল ঘি।

– গোলমরিচ চেনার জন্য কয়েকটি গোল মরিচ যদি অ্যালকোহলের মধ্যে দেয়া হয় তাহলে বিশুদ্ধ গোল মরিচ ভাসতে থাকবে এবং ভেজালযুক্ত থাকলে তা নীচে চলে যাবে।

– কফির ভেজাল শনাক্ত করার জন্য ১ গ্লাস পানির উপরে সামান্য কফির গুঁড়া ছিটিয়ে দিন। কফি পানির উপরে ভাসতে থাকলেও চিকোরি পানির নীচে চলে যাবে এবং রঙের সারি দেখা যাবে।

– আইসক্রিমের ভেজাল নির্ণয়ের জন্য এর উপর কয়েকফোটা লেবুর রস ফেলুন। যদি ফেঁপে ওঠে তাহলে বুঝতে হবে এতে ওয়াশিং পাউডার মিশ্রণ করা হয়েছে।

– চিনির ভেজাল নির্ণয়ের জন্য ১ গ্লাস পানিতে চিনি মেশালে যদি সরাসরি নীচে চলে যায় তাহলে তা বিশুদ্ধ চিনি। আর যদি এর মধ্যে ভেজাল থাকে তাহলে এটি পানির উপরে ভাসতে থাকবে।

– চায়ের গুঁড়া একটি নষ্ট ব্লটিং পেপারের উপরে ছিটিয়ে দিন। যদি ব্লটিং পেপারের রঙ হলুদ, কমলা বা লাল হয়ে যায় তাহলে বুঝে নিবেন এর মধ্যে কৃত্রিম রঙ মেশানো আছে।

এসব কৌশলের মাধ্যমে খাদ্যের উপকরণগুলো চিহ্নিত করে তবেই খাদ্য তৈরি করুন। আর রোগবালাই থেকে দূরে থাকুন।