আবারও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু

প্রিন্ট

আবারও বিদ্যুতের পাইকারি এবং গ্রাহক পর্যায়ে দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এ লক্ষে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) পাইকারি বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর এবং গ্রাহক পর্যায়ে মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব জমা দিয়েছে কমিশনে। সেই সাথে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) বিদ্যুৎ সঞ্চালন মূল্যহার বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে। এ ছাড়া বিদ্যুৎ বিতরণকারী আরও পাঁচটি কোম্পানি মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব কমিশনে জমা দিয়েছে।

সম্প্রতি পিডিবি কমিশনকে জানিয়েছে, উৎপাদন মূল্যের চেয়ে কম দামে বিদ্যুৎ বিক্রি করলে ২০২০ সালে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকা লোকসান হবে। কমিশনকে দেওয়া চিঠিতে বিদ্যুতের পাইকারি মূল্য বাড়ানোর কোনো সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব না থাকলেও লোকসানের টাকা সরকারের পক্ষ থেকে ভর্তুকি দেওয়া হবে, নাকি দাম বাড়িয়ে ঘাটতি সমন্বয় করা হবে, সে বিষয়ে কমিশনের সিদ্ধান্ত জানতে চেয়েছেন পিডিবি। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলো গ্রাহক পর্যায়ে বা খুচরা বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে কমিশনে। কমিশন পাইকারি এবং খুচরা সব ধরনের বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব আমলে নিয়ে ইতোমধ্যে গণশুনানির আয়োজন করেছে।

আগামী ২৮ নভেম্বর সকাল ১০ থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত পিডিবি পাইকারি মূল্যহার বৃদ্ধির প্রস্তাবের ওপর শুনানি হবে। একই তারিখে বেলা ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত পিজিসিবির সঞ্চালন মূল্যহার পরিবর্তনের ওপর শুনানি হবে। ১ ডিসেম্বর সকাল ১০টা থেকে ১টা পর্যন্ত পিডিবির খুচরা মূল্যহার বৃদ্ধির এবং দুপুর ২টা থেকে ৫টা পর্যন্ত নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেডের (নেসকো) খুচরা মূল্যহার পরিবর্তনের ওপর শুনানি হবে। এ ছাড়া ২ ডিসেম্বর সকালে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) এবং বিকালে ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানির (ডেসকো) খুচরা পর্যায়ে মূল্যবৃদ্ধির ওপর গণশুনানির তারিখ ও ৩ ডিসেম্বর সকালে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বাপবিবো) এবং দুপুরের পরে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) খুচরা মূল্যবৃদ্ধির ওপর গণশুনানি সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

সর্বশেষ ২০১৭ সালের ২৩ নভেম্বর গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের মূল্য গড়ে ইউনিটপ্রতি ৩৫ পয়সা বৃদ্ধি করা হয়, যা ওই বছর ডিসেম্বর থেকে কার্যকর করা হয়; তবে সে সময় পাইকারি মূল্য বাড়ানো হয়নি। এর আগে ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে বিদ্যুতের দাম ২.৯৩ শতাংশ বাড়ানো হয়। গত জুলাই থেকে বিদ্যুতের উৎপাদনে গ্যাসের মূল্য ৪১ শতাংশ বৃদ্ধি করে সরকার।

পিডিবি বলছে, আগামী বছর (২০২০) বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিক্রয়ে পিডিবি লোকসান (আয়-ব্যয়ের ঘাটতি) দাঁড়াবে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকা, এমন তথ্য জানিয়ে এ মাসের তৃতীয় সপ্তাহে বিইআরসিকে চিঠি দেয় পিডিবি। বিইআরসিতে দেওয়া পিডিবির চিঠিতে জানানো হয় ২০২০ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়াবে ৭ হাজার ৯২০ কোটি ৬২ লাখ কিলোওয়াট ঘণ্টা। এই হিসাবে আগামী বছর পিডিবির ব্যয় হবে ৪৫ হাজার ২০৮ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। অন্যদিকে, ২০২০ সালে পিডিবির সম্ভাব্য আয় দাঁড়াবে ৩৬ হাজার ৬৪৮ কোটি ২৪ লাখ টাকা। এতে পিডিবির ঘাটতি দাঁড়াবে প্রায় ৮ হাজার ৫৬০ কোটি ৬৯ লাখ টাকা।