শাহজালাল বিমানবন্দরে একদিনে ৮ ফ্লাইট ওঠা-নামা

বিমানবন্দরে

করোনাভাইরাসের কারণে চলামান লকডাউনের মাঝেও হঠাৎ ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়েছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। রবিবার একদিনেই ৮টি ফ্লাইট ওঠানামা করেছে এখানে। এর মধ্যে একটি ছিল সিডিউল ফ্লাইট- বাকিগুলো স্পেশাল। এসব ফ্লাইটে প্রায় ৮শ’ যাত্রী আসা যাওয়া করেছেন। একটি ফ্লাইটে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে যুক্তরাজ্যে উপহারসামগ্রী পাঠানো হয়েছে।

এদিন যুক্তরাজ্য, কানাডা, চীন, ভারত, বাহরাইন, কাতার ও কোরিয়ার মতো দেশগুলোতে এসব ফ্লাইট অপারেট করা হয়েছে। লকডাউনের পর রবিবারই এক সঙ্গে প্রথম এতগুলো ফ্লাইট অপারেট করায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আগের মতোই প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসে। এ দিনের অন্যতম আলোচনার বিষয় ছিল বেসরকারী এয়ারলাইনস ইউ এস বাংলার প্রথম কার্গো ফ্লাইটের আনুষ্ঠানিক যাত্রা। বেবিচক সূত্র জানিয়েছে, এখন থেকে প্রতিদিন বাড়তে থাকবে এ ধরনের ফ্লাইট পরিচালনার সংখ্যা।

বেবিচক সূত্র জানায়, প্রথম ফ্লাইটে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ভাড়া করা বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে ১৫৪ জন ব্রিটিশ নাগরিক ঢাকা ত্যাগ করেন। ওই ফ্লাইটে ছিল যুক্তরাজ্যের জন্য পাঠানো বেশ কিছু উপহারসামগ্রী। ওই ফিরতি ফ্লাইটেই যুক্তরাজ্যে পড়তে যাওয়া ১৩০ জনের বেশি শিক্ষার্থী দেশে ফেরত আসছেন।

আজ সোমবার সকালে লন্ডন থেকে তাদের ঢাকায় পৌঁছানোর কথা। আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ থাকায় এসব শিক্ষার্থী যুক্তরাজ্যে আটকা পড়েছিলেন। যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ হাইকমিশনের উদ্যোগে বিমান বাংলাদেশের বিশেষ ফ্লাইট রবিবার লন্ডন সময় বিকেল ৬টা ২০ মিনিটে রওনা হয়। আজ বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৯টায় তাদের ঢাকা পৌঁছানোর কথা।

জানা গেছে, ওই ফ্লাইটে যাওয়ার জন্য সিলেট থেকে যুক্তরাজ্যগামী বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ৫৮ ব্রিটিশ নাগরিককে একটি বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকায় নিয়ে বেসরকারী বিমান সংস্থা নভোএয়ার। তাদের নিয়ে রবিবার সকাল ৯টা ৫ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছায় ফ্লাইটটি। সকালে নভোএয়ারের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, একটি বিমান সংস্থার বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইট তাদের নিয়ে ঢাকা থেকে যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার যাবে। এই ৫৮ ব্রিটিশ নাগরিককে ওই ফ্লাইটে নেয়ার জন্য সিলেট থেকে ঢাকায় নেয়া হয়েছে। এর আগে গত ৫ মে পর্যন্ত ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের পাঁচটি চার্টার্ড ফ্লাইটে সিলেট থেকে ৯ শতাধিক ব্রিটিশ নাগরিক যুক্তরাজ্য পৌঁছান।

রবিবার লন্ডনের উদ্দেশে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে ফ্লাইটটি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস সূত্র এসব তথ্য জানান। তারা বলছেন, সেই ফ্লাইটে কতজন বাংলাদেশী দেশে ফিরছেন। আর উপহারের তালিকায় রয়েছে- করোনা সরঞ্জাম পারসোনাল প্রটেকটিভ ইক্যুইপমেন্ট (পিপিই), হ্যান্ড স্যানিটাইজার, হাতমোজা, হেড-কাভার, সু-কাভার ও বিভিন্ন ভিটামিন ট্যাবলেট। সঙ্গে খাদ্যসামগ্রী হিসেবে থাকছে টাটকা সবজি ও মৌসুমি ফল।

বিকেলে কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে ঢাকা ত্যাগ করেছেন তিন শতাধিক কানাডার নাগরিক। তারা ওই এয়ারলাইনসের একটি স্পেশাল ফ্লাইটে প্রথমে ঢাকা থেকে দোহা যান। সেখান থেকে টরেন্টোর উদ্দেশে রওনা হন।

একই দিন ইউএস বাংলার একটি সিডিউল ফ্লাইটে চীনের ১১৭ জন নাগরিক ঢাকা থেকে গুয়াংজু গেছেন।

এদিকে রবিবার কলকাতা, চেন্নাই, কাতার, কোরিয়া ও বাহরাইন থেকে ঢাকায় আসেন বিপুলসংখ্যক যাত্রী। তাদের মধ্যে বেশির ভাগই বাংলাদেশী।

কাতার থেকে কাতার এয়ারওয়েজের একটি স্পেশাল ফ্লাইটে আসেন মাত্র দুই নাগরিক। বাহরাইন থেকে বাহরাইনের একটি ফ্লাইটে আসেন ৫৮ বাংলাদেশী নাগরিক। একইভাবে বিশেষ ফ্লাইটে কোরিয়া থেকে আসেন ৬২ বাংলাদেশী। বিকেলে কলকাতা থেকে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে আসেন ৭৪ জন বাংলাদেশী। একইদিন দুপুরে চেন্নাই থেকে একটি স্পেশাল ফ্লাইটে ১৬৪ জন বাংলাদেশীকে ফিরিয়ে আনে ইউএস বাংলার ফ্লাইট।

এদিকে প্রথমবারের মতো যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ দিয়ে কার্গো ফ্লাইট শুরু করেছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস। ঢাকা-ব্যাঙ্কক-ঢাকা রুটে প্রথম কার্গো ফ্লাইট পরিচালনা করে এয়ারলাইনসটি।

জানা গেছে, ঢাকা থেকে রফতানিযোগ্য পণ্য নিয়ে ইউএস-বাংলার বিএস-২১৩ কার্গো ফ্লাইটটি সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ব্যাঙ্ককের উদ্দেশে উড্ডয়ন করে। ব্যাঙ্ককের সুবর্ণভূমি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্থানীয় সময় দুপুর ১টায় অবতরণ করে। ব্যাঙ্কক থেকে বিএস-২১৪ কার্গো ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। করোনা তা-বের কারণে সারাবিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের আকাশ পথের পরিবহন যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ রয়েছে। তবে একমাত্র ইউএস-বাংলা সপ্তাহের প্রতি শনিবার ঢাকা-গুয়াংজু রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। অন্যদিকে, করোনা দুর্যোগে দেশের আমদানি-রফতানিকে সচল রাখার জন্য ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস সরকারের কাছে কার্গো ফ্লাইট পরিচালনার জন্য অনুমতি চায়। ইউএস-বাংলাকে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে কার্গো ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি প্রদান করে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস জানিয়েছে, বোয়িং ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজ দিয়ে বর্তমান অবস্থায় বিভিন্ন দেশ থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য, চিকিৎসা সামগ্রী, জরুরী রফতানি পণ্য, গার্মেন্টস পণ্য, পচনশীল দ্রব্য শাক-সবজি ইত্যাদি পরিবহন করবে। প্রতিটি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ এয়ারক্রাফটে প্রায় ১৫ টন কার্গো পরিবহন করা সম্ভব হবে। বাংলাদেশের সঙ্গে কার্গো পরিবহনে যেসব দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি আছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস সেসব দেশে কার্গো পরিবহন করতে পারবে। প্রাথমিকভাবে এশিয়ার দেশগুলোতে বিশেষ করে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, চীন, সৌদি আরব, থাইল্যান্ড, ভারত, কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে কার্গো পরিবহনের পরিকল্পনা করছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস।

image_printপ্রিন্ট করুন
শেয়ার করুনঃ