আগামীকাল থেকে গণপরিবহন চালু, আজ বাস ভাড়া চূড়ান্ত হবে

রাজধানীর বনানীতে বিআরটিএর প্রধান কার্যালয়ে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে সীমিত আকারে গণপরিবহন চালু করতে পরিবহন মালিক এবং শ্রমিক সংগঠনসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মোঃ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভার শুরুতে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এমপি ভিডিও কনফারেন্সে বক্তব্য দেন ।

শুক্রবার গণপরিবহন চালুর বিষয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সঙ্গে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের এক মতবিনিময় সভার উদ্বোধনী বক্তব্যে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী গণপরিবহন চালু করতে স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে মালিক-শ্রমিকদের ১২ দফা নির্দেশনা দেন। বিকেল তিনটায় রাজধানীর বনানীতে বিআরটিএর অফিসে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

জানা গেছে, সোমবার থেকে রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চল রেলওয়েতে ‘ক’ গ্রুপে চারটি করে মোট আটটি আন্তঃনগর ট্রেন চালানো হবে। একইসঙ্গে ৩ জুন থেকে ‘খ’ গ্রুপে আরও ৯টি ট্রেন পরিচালনা করা হবে বলে জানা গেছে। উল্লেখ্য করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ২৫ মার্চ থেকে সব ধরনের যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ করে সরকার। তবে মালবাহী ট্রেন চালু রয়েছে।

প্রাথমিকভাবে শুধু দেশের ৮ টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যাতায়াত ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে সরকারের দেয়া স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষামূলকভাবে ১৫ দিনের জন্য ট্রেন পরিচালনার জন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। তবে এসব স্থানে শুধু আন্তঃনগর ও বেশিরভাগ ননস্টপ ট্রেন পরিচালনা করা হবে বলে জানা গেছে। তবে কোন প্রকার মেইল লোকাল ও কমিউটার ট্রেন পরিচালনা করা হবে না। কম সংখ্যক স্টেশনে যাত্রী উঠানামা করতে ও মাত্র অর্ধেক যাত্রী নিয়ে প্রতিটি ট্রেন পরিচালনা করা হবে। একটি ট্রেনের মোট আসনের অর্ধেক যাত্রী নিয়ে প্রতিটি ট্রেন পরিচালনা করা হবে। একটি আসন পরপর যাত্রীরা ট্রেনে বসবে। ফলে মোট আসনের অর্ধেক যাত্রী নিয়েই চালানো হবে প্রতিটি ট্রেন এমনটাই জানিয়েছেন রেলপথমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন।

তিনি বলেন, আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রতিটি ট্রেনে যাত্রী পরিহনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। নিয়মের বাইরে কোন যাত্রীকে ট্রেনে চড়তে দেয়া হবে না সেজন্য ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কেউ আইন না মানলে আইনানুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে জরিমানা করা হবে।

তিনি বলেন, এরই অংশ হিসেবে রেল কর্তৃপক্ষ ঢাকা থেকে সারাদেশে ট্রেন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। যাত্রীদের চাহিদা ও সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী পরে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো হবে। শুরুতে সর্বোচ্চ সতর্কতায় আমরা ট্রেনগুলো চালাতে চাচ্ছি। কোন অবস্থাতেই যাতে স্বাস্থ্যবিধি ভঙ্গ না হয় সেদিকে খেয়াল রাখা হবে। আজ শনিবার ট্রেন পরিচালনা নিয়ে করা বৈঠক শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।

শুক্রবার কমলাপুর রেলস্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে, ট্রেন পরিচালনার জন্য ট্রেনের ইঞ্জিন পরীক্ষা করা হচ্ছে। এছাড়া ট্রেনের ভেতর জীবাণুনাশক ছিটানোর কাজ করছে রেল কর্মীরা।

image_printপ্রিন্ট করুন
শেয়ার করুনঃ