এপ্রিল থেকে ঋণের সর্বোচ্চ সুদহার এক অংকে

ডলার

এপ্রিল মাসের ১ তারিখ থেকে ক্রেডিট কার্ড বাদে সব ঋণের সর্বোচ্চ সুদহার এক অংকে অথ্যাৎ ৯ শতাংশ বেঁধে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে রপ্তানির ক্ষেত্রে আগের মতোই সর্বোচ্চ সুদহার ৭ শতাংশ অপরিবর্তিত থাকবে। সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ঋণের ক্ষেত্রে এক অংকে সুদহার কার্যকরের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলার জারি করেছে।

জানুয়ারিতে ব্যাংকের চেয়ারম্যান-এমডিদের সঙ্গে বৈঠক করে ১ এপ্রিল থেকে নয়-ছয় কার্যকরের ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

কেন্দ্রীয় সার্কুলারে বলা হয়েছে, ক্রেডিট কার্ড ব্যতীত অন্য সব খাতে অশ্রেণিকৃত ঋণ বা বিনিয়োগের ওপর সুদ বা মুনাফা হার সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ নির্ধারণ করা হলো। কোনো ঋণ বা বিনিয়োগের ওপর উল্লিখিতভাবে সুদ বা মুনাফা হার ধার্য করার পরও যদি সংশ্লিষ্ট ঋণ বা বিনিয়োগ গ্রহীতা খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত এপ্রিল থেকে ঋণের সর্বোচ্চ হয় সেক্ষেত্রে যে সময়কালের জন্য খেলাপি হবে অর্থাৎ মেয়াদি ঋণ বা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে খেলাপি কিস্তি এবং চলতি মূলধন ঋণ বা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মোট খেলাপি ঋণ বা বিনিয়োগের ওপর সর্বোচ্চ ২ শতাংশ হারে দণ্ড সুদ বা অতিরিক্ত মুনাফা আরোপ করা যাবে।

প্রিশিপমেন্ট রপ্তানি ঋণের বিদ্যমান সর্বোচ্চ সুদ বা মুনাফা হার ৭ শতাংশ অপরিবর্তিত থাকবে। কোনোভাবেই এর বেশি সুদ বা মুনাফা আরোপ করা যাবে না।

সব ঋণের ক্ষেত্রে এভাবে সুদহারের সীমা বেঁধে দেওয়া নজিরবিহীন। সর্বোচ্চ সুদহার বেঁধে দেওয়ার বিষয়ে সার্কুলারে বলা হয়েছে, বর্তমানে ব্যাংকের ঋণ বা বিনিয়োগের উচ্চ সুদ বা মুনাফা হার দেশের ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৃহৎ শিল্পসহ ব্যবসা ও সেবা খাতের বিকাশে প্রধান অন্তরায় হিসাবে দাঁড়িয়েছে। ব্যাংক ঋণ বা বিনিয়োগের সুদ বা মুনাফা হার উচ্চমাত্রার হলে সংশ্লিষ্ট শিল্প, ব্যবসা ও সেবা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পায় এবং উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতকরণে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়। ফলে শিল্প, ব্যবসা ও সেবা প্রতিষ্ঠানসমূহ কখনও কখনও প্রতিকূল পরিস্থি’তির সম্মুখীন হয় বিধায় সংশ্লিষ্ট ঋণ বা বিনিয়োগ গ্রহীতারা যথাসময়ে ব্যাংক ঋণ বা বিনিয়োগ পরিশোধে সমর্থ হয় না। ব্যাংকিং খাতে ঋণ শৃংখলা বিঘ্নিত হয় এবং সার্বিকভাবে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়। এ প্রেক্ষাপটে শিল্প, ব্যবসা ও সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে অধিক সক্ষমতা অর্জনসহ শিল্প ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, ঋণ বা বিনিয়োগ পরিশোধে সক্ষমতা এবং কাক্সিক্ষত জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে সুদহার কমানোর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

সুদ কমানোর ফলে এসএমই খাতে ঋণ বিতরণ যেন না কমে যায় সেই নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে সার্কুলারে। ব্যাংকগুলো এসএমই খাতকে নয়-ছয়ে এর বাইরে রাখার দাবি জানায়। সার্কুলারে বলা হয়েছে, চলতি বছর থেকে ব্যাংকের মোট ঋণ বা বিনিয়োগ স্থিতির মধ্যে এসএমই’র ম্যানুফ্যাকচারিং খাতসহ শিল্প খাতে প্রদত্ত সব ঋণ বা বিনিয়োগ স্থিতি অব্যবহিত পূর্ববর্তী ৩ বছরের গড় হারের চেয়ে কোনোভাবেই কম হতে পারবে না। অর্থাৎ যে পরিমাণ ঋণ দেওয়া হয়েছে সেই পরিমাণ ঋণ দেওয়া অব্যাহত রাখতে হবে।

উল্লেখ্য, নয়-ছয় বাস্তবায়নের উদ্যোগ শুরু হয় ২০১৮ সালের জুলাই থেকে। এজন্য ব্যাংকের চেয়ারম্যান-এমডিরা বিভিন্ন সুবিধাও হাতিয়ে নিয়েছেন। এরপর কয়েক দফায় বাস্তবায়নের ঘোষণা দেওয়া হয়। সর্বশেষ জানুয়ারির প্রথমদিকে ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী। তার ঘোষণা বাস্তবায়নের জন্য এরই মধ্যে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে আমানতের সর্বোচ্চ সুদহার ৬ শতাংশ কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছে ব্যাংকগুলো। এছাড়া ব্যাংকগুলোকে সরকারি সংস্থার আমানত ৬ শতাংশ সুদে দেওয়ার জন্য অর্থমন্ত্রণালয় পৃথক নির্দেশনাও জারি করে।

image_printপ্রিন্ট করুন
শেয়ার করুনঃ