মোবাইল অপারেটরদের প্রতারণা রোধে মনিটরিং সিস্টেম স্থাপিত হচ্ছে

কল ড্রপ, নেটওয়ার্ক সমস্যা ও ইন্টারনেট সেবা নিয়ে মোবাইল ফোনের অপারেটরগুলোর বিরুদ্ধে গ্রাহকদের অভিযোগের শেষ নেই। ইন্টারনেটের গতি ঠিক মতো না পাওয়া, ডাটা দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা হরহামেশা ঘটলেও কোম্পানিগুলো বিভিন্ন সূচক ও মানের দোহাই দেয়। প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারলেও কিছু করার থাকে না গ্রাহকদের।

তাই এসব সমস্যা সমাধানে সূচক ও মান পরিমাপ করতে টেলিকম মনিটরিং সিস্টেম (টিএমএস) যন্ত্র স্থাপন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (বিটিআরসি)।

বর্তমানে অপারেটরগুলোর প্রতিবেদন থেকেই বিটিআরসি জানতে পারছে টেলিকম সেবার চিত্র। মনিটরিং সিস্টেম চালু হলে বিটিআরসিকে আর অপারেটরগুলোর প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করতে হবে না। বিটিআরসি সার্বক্ষণিক টিএমএসের সঙ্গে যুক্ত থেকে দেখতে পারবে— সেবার মান, নেটওয়ার্কের সার্বিক চিত্র, ভয়েস ও ইন্টারনেটে গ্রাহককে ফাঁকি দেওয়া হচ্ছে কিনা।

টিএমএস ব্যবস্থা চালু হলে প্রথমে মোবাইল অপারেটরদের এবং পরে অন্যান্য অপারেটরগুলোকে (আইজিডব্লিউ, আইআইজি, আইসিএক্স ইত্যাদি) যুক্ত করা হবে। এই ব্যবস্থার দুটি অংশ রয়েছে। একটি বিটিআরসিতে স্থাপিত মনিটরিং এবং তথ্য ব্যবস্থাপনা করবে। এতে অপারেটরদের নেটওয়ার্ক এবং ট্রাফিক সম্পর্কিত তথ্য পর্যবেক্ষণ করা যাবে। আর অন্য অংশটি বসানো হবে অপারেটরগুলোর কার্যালয়ে। সেটি তাদের বিভিন্ন নেটওয়ার্ক পয়েন্টে যুক্ত থাকবে। এটা হবে একটি কমপ্লায়েন্স মনিটরিং সিস্টেম— যা প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে বিটিআরসিতে পাঠাবে। একই সঙ্গে রাজস্ব সম্পর্কিত তথ্য বিশ্লেষণ করে বিটিআরসিতে প্রতিবেদন পাঠানো হবে।

জানা গেছে, এই মনিটরিং সিস্টেম বসালে মোবাইল অপারেটরদের নেটওয়ার্কের লাইভ মনিটরিং সম্ভব হবে। নেটওয়ার্কের সেবার মান আরও সুচারুভাবে যাচাই করা যাবে এবং গ্রাহক সেবার প্রকৃত অবস্থা জানা যাবে। বিটিআরসি নিয়মিত এবং স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে কারিগরি এবং সিস্টেম অডিট সম্পন্ন করতে পারবে। ফলে বর্তমানে অডিট প্রক্রিয়া নিয়ে যে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে, তা থেকে মুক্ত থাকা যাবে।

এ ছাড়া অপারেটররা বাস্তবে যেসব ট্যারিফ (সেবা বা প্যাকেজের মূল্য) বাস্তবায়ন করছে এবং এসব ট্যারিফ প্যাকেজে বিটিআরসির অনুমোদন আছে কিনা— তাও যাচাই করা সম্ভব হবে। এ বিষয়ে অভিযোগের নিষ্পত্তিও কার্যকরভাবে সম্ভব হবে।

image_printপ্রিন্ট করুন
শেয়ার করুনঃ