শরীরে দীর্ঘদিন তারুণ্য ধরে রাখে যেসব খাবার

তারুণ্য জীবনের সেই সময় যখন একজন মানুষ তরুণ বা তরুণী থাকে। অথ্যাৎ যার শরীরের মধ্যে সৌন্দর্য, সজীবতা, জীবনীশক্তি, উদ্দীপনা ইত্যাদি থাকে। তারুণ্য কখনও সময়ের সঙ্গে বা নির্দিষ্ট কোনো বয়স সীমায় বেঁধে রেখে বর্ণনা করা যায় না।

শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গ প্রত্যঙ্গকে সতেজ রেখে তারুণ্যকে ধরে রাখতে পারে শুধু সঠিক ও পুষ্টিকর খাবার। পুষ্টিবিদরা বলছেন, তারুণ্য ধরে রাখতে খাবারের প্রতি মনোযোগী হতে হবে।

চলুনে জেনে নেই কি কি খাবার শরীরে তারুণ্য ধরে রাখে:

বিশুদ্ধ পানি: শরীরের সঠিক তারুণ্য ধরে রাখতে পানির কোনো বিকল্প নেই। তাই প্রতিদিন প্রচুর বিশুদ্ধ পানি পান করুন। এটি শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমাতে এবং শরীরের কোষগুলোকে সতেজ রেখে স্বাস্থ্যকর অবস্থা বজায় রাখতে সাহায্য করে। তারুণ্য ধরে রাখতে প্রথমেই পানি দিয়ে শুরু করুন।

রঙ্গিন ফল: রঙ্গিন ফলে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট আছে। যা দীর্ঘদিন যৌবন ধরে রাখতে সহায়তা করে। যে কোনো রঙ্গিন ফল খাবেন।

বাদাম: চেহারায় তারুণ্য ধরে রাখতে বাদামের জুড়ি নেই। বাদাম বা বিশেষ করে আখরোটে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড আছে যা ত্বককে মসৃণ করে ভিতর থেকে উজ্জ্বল করে তোলে। আখরোটে কোলেস্টেরলের মাত্রা খুব কম থাকে। তাই প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় আপনি রাখতে পারেন যে কোনও বাদাম।

আপেল: আপেলে থাকা পলিফেনল যা ফ্রি রেডিকেলের বিরুদ্ধে কাজ করে। ফ্রি রেডিকেল কোষকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং অকাল বার্ধক্যের জন্য দায়ী। এছাড়া আপেলে রয়েছে উচ্চ আঁশ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। তাই প্রতিদিন একটি করে আপেল খাবেন।

তেলযুক্ত মাছ: মাছের তেলে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড থাকে, যা তারুণ্য ধরে রাখে এবং অকাল বার্ধক্য কমাতে সাহায্য করে। তাই তেল জাতীয় মাছ অকাল বার্ধক্য রোধে বা তারুণ্য ধরে রাখতে খাদ্য তালিকায় রাখতে পারেন।

পালংশাক: পালংশাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি এবং ই রয়েছ যা তারুণ্য ধরে রাখতে সাহায্য করে। পালংশাক খাদ্য তালিকায় রাখুন। এই শাক রান্না বা সালাদ যে কোনোভাবে খেতে পারেন।

ব্রকলি: ব্রকলি বয়স বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে ধীরে করে থাকে। এতে সালফারোফেন এবং ইনডোল রয়েছে যা স্ট্রেসের সঙ্গে লড়াই করে ক্যান্সারের কোষও ধ্বংস করে দেয়।

গ্রিন টি বা সবুজ চা: তারুণ্য ধরে রাখতে গ্রিন টি বা সবুজ চা প্রশংসিত এবং কার্যকরী একটি পানীয়। সবুজ চায়ে রয়েছে একাধিক পুষ্টি উপাদান ও খনিজ পদার্থ যেমন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। যা ভাঁজহীন ত্বক এবং অভ্যন্তরীণ অবস্থা ভালো রাখতে সাহায্য করে।

ডার্ক চকলেট: ডার্ক চকলেট প্রোটিন ও ভিটামিন-বি সমৃদ্ধ অত্যন্ত পুষ্টিকর একটি খাবার। যা শরীরের বাড়তি চর্বি পুড়িয়ে ওজন কমাতে সহায়তা করে এবং চুলের গুণগত মানও ভালো করে।

রসুন: রসুনের মধ্যে রয়েছে এলিসিন নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বলিরেখা কমায় এবং অকাল বার্ধক্য রোধে সাহায্য করে। তাই কাঁচা রসুন খাওয়া খুবই উপকারী।

হলুদ: হলুদে আছে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি ইনফ্লামমেটরি উপাদান যা হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। আর তার সঙ্গে সঙ্গে বয়সের ছাপ পড়া রোধে বিশেষ সাহায্য করে থাকে।

উপরোক্ত খাবারগুলো আপনার খাদ্য তালিকায় রাখুন এবং তারুণ্যকে উপভোগ করুন।

image_printপ্রিন্ট করুন
শেয়ার করুনঃ