দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ২০২৫ সালে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৪০০ জন দরিদ্র মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে বৃত্তি প্রদান করেছে শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশন। বৃত্তিপ্রাপ্ত এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ বর্তমানে দেশের বিভিন্ন কলেজ/মহাবিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত। বৃত্তিপ্রাপ্ত ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে ২০০ জন ছাত্র এবং ২০০ জন ছাত্রী রয়েছেন। ২ বছরে বৃত্তিপ্রাপ্ত ৪০০ জন ছাত্র-ছাত্রীদেরকে তাদের কোর্স সম্পন্ন করতে সর্বমোট ২,২০,০০,০০০.০০ (দুই কোটি বিশ লক্ষ) টাকার বৃত্তি প্রদান করা হবে। ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ইং তারিখে ব্যাংকের করপোরেট প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে উক্ত বৃত্তির চেক প্রদান করা হয়। ৫০ (পঞ্চাশ) জন বৃত্তিপ্রাপ্ত ছাত্র-ছাত্রী স্বশরীরে উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বৃত্তির অর্থ গ্রহণ করেন। বৃত্তিপ্রাপ্ত অবশিষ্ট ৩৫০ জন ছাত্র-ছাত্রীর বৃত্তির অর্থ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাদের নিজ নিজ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রদান করা হবে। বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ব্যাংকের পরিচালক পর্ষদের চেয়ারম্যান জনাব মোহাম্মদ ইউনুছ এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে ব্যাংকের পরিচালক ও ব্যাংক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান জনাব এ. কে. আজাদ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব মোসলেহ্ উদ্দীন আহমেদ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ব্যাংকের এসইভিপি ও কোম্পানী সচিব জনাব মো: আবুল বাশার।
বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংকের পরিচালকবৃন্দ জনাব মো: সানাউল্লাহ সাহিদ, জনাব আব্দুল বারেক, জনাব আক্কাচ উদ্দিন মোল্লা, জনাব খন্দকার শাকিব আহমেদ, জনাব ফকির মনিরুজ্জামান এবং স্বতন্ত্র পরিচালক জনাব মো: রিয়াজুল করিম উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব মো: আব্দুল্লাহ আল-মামুন, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব এম. এম. সাইফুল ইসলাম ও জনাব মো: জাফর ছাদেক, এফসিএ এবং ব্যাংকের জনসংযোগ বিভাগের ইনচার্জ ও ব্যাংক ফাউন্ডেশন এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব কে. এম. হারুনুর রশীদ-সহ বৃত্তিপ্রাপ্ত ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ ও তাদের অভিভাবকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্যাংকের পরিচালক পর্ষদের চেয়ারম্যান জনাব মোহাম্মদ ইউনুছ মেধাবীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তোমরা শুধু নিজের জন্য সফল হবে না; অন্যদের জন্যও পথ তৈরি করবে। তোমরা যখন প্রতিষ্ঠিত হবে, তখন তোমাদের মতো আরেকজন মেধাবী কিন্তু অসচ্ছল শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়াবে। এভাবেই সহযোগিতার এই ধারাটি এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে এগিয়ে যাবে। মনে রাখবে, তোমাদের বর্তমান আর্থিক সীমাবদ্ধতা তোমাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে না। তোমাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে তোমাদের স্বপ্ন, অধ্যবসায়, সততা এবং কঠোর পরিশ্রম। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আজ যারা এই মঞ্চে বৃত্তি গ্রহণ করছে, তাদের মধ্য থেকেই আগামী দিনের অনেক আলোকিত মানুষ বেরিয়ে আসবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ব্যাংকের পরিচালক ও ব্যাংক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান জনাব এ. কে. আজাদ বলেন, বৃত্তি মেধাবীদের জন্য শুধু আর্থিক সহায়তা নয়; এটি মেধাবীদের প্রতি আমাদের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতীক। মেধাবীরা তাদের, পরিশ্রম ও সততার মাধ্যমে এই আস্থার মর্যাদা দেবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা। জীবনে সফল হওয়ার জন্য শুধু ভালো ফলাফল করাই যথেষ্ট নয়। একজন সত্যিকারের সফল মানুষ হতে হলে জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি সততা, মানবিকতা, নৈতিকতা, শৃঙ্খলা এবং দেশপ্রেমকে জীবনের অংশ করে নিতে হবে।
ব্যাংকের সাফল্য শুধু আর্থিক সূচকে পরিমাপ করা যায় না; সমাজের মানুষের জীবনে ব্যাংক কতটা ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পেরেছে, সেটিও আমাদের সাফল্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ মানদন্ড। এই বৃত্তি কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা চাই, আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীরা তাদের পড়াশোনা অব্যাহত রাখুক, নিজেদের স্বপ্ন পূরণ করুক এবং একদিন সমাজ ও দেশের জন্য অবদান রাখার মতো অবস্থানে পৌঁছাক। তাছাড়া মেধাবীদের সৎ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠার আহ্বান জানান জনাব এ. কে. আজাদ।
ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব মোসলেহ্ উদ্দীন আহমেদ বলেন, একটি ব্যাংকের মূল দায়িত্ব অর্থনৈতিক কর্মকা-কে গতিশীল করা। কিন্তু আমরা এটাও মনে করি, একটি দায়িত্বশীল ব্যাংকের ভূমিকা শুধু ব্যাংকিং সেবার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। সমাজের প্রতি, দেশের মানুষের প্রতি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি আমাদের একটি সামাজিক দায়িত্ব রয়েছে। আর সেই দায়িত্ব পালনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হলো শিক্ষা। একজন মানুষকে শিক্ষিত করলে সে নিজেই ভবিষ্যতে অসংখ্য মানুষের জীবনে পরিবর্তন আনতে পারে। তাই শিক্ষায় বিনিয়োগের সুফল সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী।
শিক্ষাই একমাত্র মাধ্যম যা একটি জাতিকে আমূলে পরিবর্তন করতে সক্ষম। আমরা আশা করছি তোমরা প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে ও জ্ঞান অর্জন করে ভবিষ্যতে দেশকে আরো সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
