উচ্চপর্যায়ের ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে চলমান কঠোর পদক্ষেপের অংশ হিসেবে বন্ধ হয়ে যাওয়া মোবাইল অপারেটর ব্র্যান্ড সিটিসেলের পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম লিমিটেডের (পিবিটিএল) শীর্ষ কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
খেলাপি ঋণ (NPL) আদায়ের লক্ষ্যে এমটিবি ২০১৮ সালের ৫ জুলাই পিবিটিএলের বিরুদ্ধে অর্থঋণ মামলা নং ৫২১/২০১৮ দায়েরের মাধ্যমে আইনি কার্যক্রম শুরু করে। এ মামলায় পিবিটিএলসহ মোট ১২ জন বিবাদীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তাঁদের মধ্যে বিদেশি ইক্যুইটি অংশীদার ও করপোরেট গ্যারান্টর হিসেবে সিংটেল এশিয়া প্যাসিফিক ইনভেস্টমেন্ট প্রাইভেট লিমিটেড, ফার ইস্ট টেলিকম লিমিটেড এবং প্যাসিফিক মোটরস লিমিটেডও রয়েছে। দীর্ঘ আট বছর বিচারিক কার্যক্রম চলার পর ঢাকার অর্থঋণ আদালত নং-০৭-এর বিজ্ঞ বিচারক মো. ফরিদ উদ্দিন ২০২৬ সালের ১৩ মে এমটিবির পক্ষে পিবিটিএলের বিরুদ্ধে রায় ও ডিক্রি প্রদান করেন।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রায়ে উল্লেখিত পাওনা পরিশোধে পিবিটিএল ব্যর্থ হওয়ায় ব্যাংকের পাওনা আদায়ের লক্ষ্যে এমটিবি ২০২৬ সালের ২৭ জুলাই ডিক্রি অনুসারে ১৩৫ কোটি ৩২ লাখ টাকা আদায়ে অর্থজারি মামলা নং ৮১০/২০২৬ দায়ের করে- যা অর্থঋণ আদালত নং-০৭, ঢাকা এ চলমান।
প্রযোজ্য আইন ও খেলাপি ঋণ আদায়ের বিধান অনুসারে এমটিবি বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং নিম্নে উল্লিখিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির ব্যবস্থা করে।
পিবিটিএলের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি।
অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ৩৪(১) ধারা অনুযায়ী নিম্নোক্ত দায়িকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে:
১. জনাব মেহবুব চৌধুরী — প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)।
২. জনাব মো. মোরশেদ খান — পরিচালক (সিটিসেলের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী)।
৩. মিসেস নাসরিন খান — পরিচালক।
৪. জনাব আসগর করিম — পরিচালক।
৫. জনাব মো. ফরিকুল হাসান — ভারপ্রাপ্ত প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও)/জামিনদার।
বিজ্ঞ অর্থঋণ আদালত নং ০৭, ঢাকার আদেশ অনুযায়ী দেওয়ানি আটকাদেশ কার্যকরের জন্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে গুলশান থানা পুলিশ একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের অংশ হিসেবে পিবিটিএলের পরিচালক মি. আসগর করিমের আবাসিক ঠিকানায় গিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকরের চেষ্টা করা হয়। তবে বাড়ির কেয়ারটেকার পুলিশকে জানান, তিনি ওই সময় বাসায় উপস্থিত ছিলেন না।
আদালতের আদেশ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আগামী ১৮ নভেম্বর ২০২৬ তারিখের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে সক্রিয় নজরদারি ও অনুসন্ধান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
