শুক্রবার, ৬ই মার্চ ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

UCB Bank

হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি যেসব কারণে বাড়তে পারে

প্রকাশঃ

বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর প্রধান কারণ হৃদরোগ। তবে হার্ট অ্যাটাক হঠাৎ করে ঘটে না—বরং বছরের পর বছর ধরে নানা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ক্ষতির ফলে ধীরে ধীরে ঝুঁকি বাড়ে। দৈনন্দিন অভ্যাস, স্বাস্থ্যগত সমস্যা এমনকি জেনেটিক কারণও এর পেছনে দায়ী। সম্প্রতি কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকদের একটি বৃহৎ গবেষণায় উঠে এসেছে, প্রায় সব বড় কার্ডিওভাসকুলার জটিলতার আগেই এক বা একাধিক ঝুঁকির উপস্থিতি পাওয়া যায়।

পারাস হেলথের কার্ডিওলজি বিভাগের পরিচালক ও ইউনিট প্রধান ডা. অমিত ভূষণ শর্মা বলেন, বয়স ও পারিবারিক ইতিহাসের মতো কিছু কারণ বদলানো না গেলেও জীবনধারার নানা ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে এনে হৃদরোগ প্রতিরোধ সম্ভব। তিনি উল্লেখ করেন, সময়মতো সতর্ক হলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো যায়।

তিনি যে ১৫টি জীবনধারা ও অভ্যাসকে হৃদযন্ত্রের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর হিসেবে চিহ্নিত করেছেন তা হলো—

  • ধূমপান ও পরোক্ষ ধূমপান – ধূমপায়ীরা অধূমপায়ীদের তুলনায় দ্বিগুণ ঝুঁকিতে থাকেন।
  • অস্বাস্থ্যকর খাবার ও অতিরিক্ত লবণ – উচ্চ রক্তচাপ ও ধমনী সংকোচন ঘটায়।
  • চাপ ও মানসিক অস্থিরতা – হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে হৃদযন্ত্রের ক্ষতি করে।
  • ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে না রাখা – রক্তনালীর ক্ষতি ও প্লাক জমে যায়।
  • স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজন – কোলেস্টেরল ও রক্তচাপ বাড়ায়।
  • অলস জীবনযাপন – ব্যায়ামের অভাব হৃদপিণ্ডকে দুর্বল করে।
  • অতিরিক্ত মদ্যপান – রক্তচাপ ও অনিয়মিত হৃদস্পন্দন বাড়ায়।
  • দাঁতের যত্ন না নেওয়া – মাড়ির সংক্রমণ থেকে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে।
  • উচ্চ রক্তচাপ – ‘নীরব ঘাতক’, সময়মতো নিয়ন্ত্রণ জরুরি।
  • স্লিপ অ্যাপনিয়া – ঘুমের মধ্যে শ্বাসকষ্ট হৃদপিণ্ডে বাড়তি চাপ ফেলে।
  • অতিরিক্ত ব্যথানাশক সেবন – বিশেষত NSAIDs ওষুধ হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
  • পারিবারিক ইতিহাস – বংশগতভাবে ঝুঁকি অনেক বেশি।
  • বয়স ও লিঙ্গভিত্তিক ঝুঁকি – বয়স বাড়ার সাথে সাথে ধমনী শক্ত হয়ে যায়।
  • চিকিৎসক পরামর্শ এড়িয়ে যাওয়া – অনেক সমস্যা অদেখা থেকে যায়।
  • প্রেসক্রিপশনের ওষুধ বাদ দেওয়া – রক্তচাপ বা ডায়াবেটিসের ওষুধ বন্ধ করলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ে।

ডা. শর্মা বলেন, “প্রতিরোধ চিকিৎসার চেয়ে সবসময় কার্যকরী।” তাই স্বাস্থ্যকর খাবার, নিয়মিত ব্যায়াম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ, দাঁতের যত্ন এবং চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী ওষুধ সেবন—এসবই হৃদরোগ প্রতিরোধে অপরিহার্য।

শেয়ার করুনঃ

উপরের পোস্টটি সম্পর্কে আপনার মন্তব্য কি?

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

এই মাত্র প্রকাশিত

এই বিভাগের আরও সংবাদ