কর্মরত থাকাকালীন বিভিন্ন সময়ে মৃত্যুবরণকারী সাংবাদিকদের সন্তানদের লেখাপড়ার জন্য শিক্ষাবৃত্তি দিয়েছে এনআরবিসি ব্যাংক-ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)। ব্যাংকের কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) তহবিল থেকে ডিআরইউয়ের প্রয়াত ৩৩ জন সদস্যের সন্তানদের জনপ্রতি মাসিক ৩ হাজার টাকা হারে বার্ষিক ৩৬ হাজার টাকা বৃত্তি প্রদান করা হবে। ২৭ নভেম্বর, ২০২৫ বৃহস্পতিবার ডিআরইউ মিলনায়তনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই বৃত্তির চেক হস্তান্তর করেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড.চৌধুরী রফিকুল আবরার। এসময় এনআরবিসি ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) ও চিফ অপারেটিং অফিসার মোহাম্মদ আব্দুল কাইয়ুম খান, কমিউনিকেশন বিভাগের প্রধান মো.হারুন-অর-রশিদ, ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল, কল্যাণ সম্পাদক রফিক মৃধা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এই বৃত্তি প্রদানের জন্য এনআরবিসি ব্যাংক সর্বমোট ১১ লাখ ৮৮ হাজার টাকা অর্থ সহায়তা করবে।
অনুষ্ঠানে শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার বলেন, উন্নত জাতি গঠনে শিক্ষার কোন বিকল্প। সকল পর্যায়ের মানুষদেরকে উপযুক্ত শিক্ষায় শিক্ষিত করতে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে। মহান পেশা সাংবাদিকতায় নিযুক্ত ছিলেন তাদের সন্তানেরা আজ বৃত্তিপ্রাপ্ত হচ্ছেন। ব্যাংকিং সেক্টর নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও যে অঙ্গীকার নিয়ে এনআরবিসি ব্যাংক এই সামাজিক দায়িত্ব বহন করছে, তা সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। সকল প্রতিষ্ঠান এ ধরনের দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিলে একজন শিশুও আর্থিক সংকটের কারণে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হবেন না।
এনআরবিসি ব্যাংকের ডিএমডি মোহাম্মদ আব্দুল কাইয়ুম খান বলেন, সাংবাদিকেরা জাতির বিবেক। তাঁদের লেখনীর মাধ্যমে অসংগতিগুলো যেমন বেরিয়ে আসে তেমনি উন্নয়নের পথনকশাও পাওয়া যায়। আমরা এনআরবিসি ব্যাংক সমাজের একেবারে পিছিয়ে পড়া মানুষদের এগিয়ে নিতে কাজ করছি। আমাদের বিস্তৃত প্রায় ৬০০ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষদেরকে অর্থায়ন করে তাদের আর্থিক উন্নয়নে কাজ করছি। পাশাপাশি সিএসআর তহবিলের আওতায় শিক্ষা ও চিকিৎসায় সহায়তা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তসহ অসহায় মানুষদের কল্যাণে অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে।
ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন বলেন, সাংবাদিকেরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশের জন্য কাজ করেন। কিন্তু নানা কারণে তাদের আর্থিক নিরাপত্তা নেই। আমাদের ডিআরইউয়ের ৩৩ জন সদস্য অকালে মৃত্যুবরণ করায় তাদের পরিবার সংকটে পড়েছে। আমরা তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। এনআরবিসি ব্যাংককে ধন্যবাদ অসহায় পরিবারদের সন্তানদের বৃত্তি প্রদানে এগিয়ে আসার জন্য।
সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল বলেন, এনআরবিসি ব্যাংকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি সাংবাদিকদের কল্যাণমুলক কাজে এগিয়ে আসার জন্য। ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি।

