খোসাসহ শসা খেলে কী হয়? হজম থেকে ওজন নিয়ন্ত্রণে কতটা উপকারী

প্রকাশঃ

শসা কাটার সময় অনেকেই এর খোসা ফেলে দেন। আবার কেউ কেউ খোসাসহ শসা খেতেই বেশি পছন্দ করেন। কিন্তু কোন অভ্যাসটি স্বাস্থ্যের জন্য ভালো? শসার খোসা কি সত্যিই ক্ষতিকর, নাকি এর মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় নানা পুষ্টি উপাদান? এ নিয়ে অনেকের মনেই রয়েছে বিভ্রান্তি। পুষ্টিবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে শসার খোসা ফেলে দেওয়ার আগে কয়েকটি বিষয় জেনে রাখা জরুরি।

পুষ্টিবিদদের মতে, শসার খোসায় রয়েছে খাদ্যআঁশ, ভিটামিন কে এবং বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। তাই ভালোভাবে পরিষ্কার করা শসা খোসাসহ খেলে বাড়তি কিছু পুষ্টি পাওয়া যায়। বিশেষ করে হজম ভালো রাখা, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে শসার খোসা উপকারী হতে পারে।

হজমের সমস্যা কমাতে সাহায্য করে

শসার খোসায় প্রচুর পরিমাণে ডায়েটারি ফাইবার থাকে, যা হজমশক্তি বাড়ায় এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে বলে ওজন নিয়ন্ত্রণে এটি দারুণ কার্যকর। তাই যাদের খাবারে আঁশের পরিমাণ কম, তারা খোসাসহ শসা খেতে পারেন।

চোখ ও হাড়ের জন্য উপকারী

শসার খোসায় ভিটামিন কে এবং বিটা-ক্যারোটিনসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান থাকে। ভিটামিন কে রক্ত জমাট বাঁধার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অন্যদিকে বিটা-ক্যারোটিন শরীরে ভিটামিন এ তৈরিতে সাহায্য করে, যা চোখের স্বাভাবিক দৃষ্টিশক্তি ও সুস্থতার জন্য প্রয়োজনীয়।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ

শরীরে ফ্রি র‍্যাডিক্যালের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ভূমিকা রাখে। শসার খোসায় থাকা বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে সুরক্ষায় সহায়তা করতে পারে। তাই নিয়মিত সুষম খাদ্যতালিকায় শসা রাখা উপকারী।

ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক

যারা ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন, তাদের খাদ্যতালিকায় শসা রাখতে পারেন। শসায় ক্যালরির পরিমাণ কম এবং পানির পরিমাণ বেশি। খোসার খাদ্যআঁশসহ খেলে পেট কিছুটা দীর্ঘক্ষণ ভরা থাকতে পারে। ফলে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা পাওয়া যায়। তবে শুধু শসা খেলেই ওজন কমবে, এমন ধারণা ঠিক নয়। এর জন্য প্রয়োজন সুষম খাবার ও নিয়মিত শরীরচর্চা।

ত্বক ও চুলের যত্নেও ভূমিকা

শসার খোসায় থাকা সিলিকা ত্বক ও চুল ভালো রাখতে এবং ত্বকে বয়সের ছাপ (রিংকেল) পড়তে বাধা দেয়।

খোসায় কীটনাশক ও মোমের প্রলেপ থাকে

শসার খোসা খাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা। বাজারে পাওয়া কিছু শসার গায়ে প্রাকৃতিক মোমের পাশাপাশি সংরক্ষণের জন্য খাদ্যোপযোগী মোমের প্রলেপ থাকতে পারে। আবার চাষের সময় কীটনাশক ব্যবহারের সম্ভাবনাও থাকে। তাই না ধুয়ে শসা খোসাসহ খাওয়া উচিত নয়।

শসা পরিষ্কারের জন্য প্রথমে পরিষ্কার প্রবাহমান পানির নিচে রেখে হাত দিয়ে ভালোভাবে ঘষে ধুয়ে নিন। প্রয়োজন হলে পরিষ্কার সবজির ব্রাশ ব্যবহার করতে পারেন। ভিনিগার বা বেকিং সোডা মেশানো পানিতে ভিজিয়ে রাখলেই সব ধরনের কীটনাশক ও মোম সম্পূর্ণ দূর হয়ে যায়, এমন নিশ্চয়তা নেই। শসা ধোয়ার জন্য সাবান, ডিটারজেন্ট বা ব্লিচ ব্যবহার করবেন না।

তাহলে খোসা ছাড়িয়ে খাবেন, নাকি খোসাসহ

পুষ্টিগুণের কথা বিবেচনা করলে ভালোভাবে পরিষ্কার করা শসা খোসাসহ খাওয়াই ভালো বিকল্প। এতে খোসায় থাকা খাদ্যআঁশ ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়। তবে শসার পরিচ্ছন্নতা নিয়ে সন্দেহ থাকলে খোসা ছাড়িয়ে খেতে পারেন। যাদের শসায় অ্যালার্জি বা হজমজনিত অস্বস্তি হয়, তাদেরও সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

শসার খোসা নিজে ক্ষতিকর নয়। বরং পরিষ্কার ও নিরাপদ শসার খোসায় রয়েছে বাড়তি পুষ্টিগুণ। তাই অকারণে খোসা ফেলে না দিয়ে পরিচ্ছন্নতার দিকে নজর দিন।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস, মায়ো ক্লিনিক

শেয়ার করুনঃ

উপরের পোস্টটি সম্পর্কে আপনার মন্তব্য কি?

আপনার মন্তব্য লিখুন!
এখানে আপনার নাম লিখুন

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

এই মাত্র প্রকাশিত

এই বিভাগের আরও সংবাদ