জাহাজ ও কনটেইনার জটে অচল প্রায় চট্টগ্রাম বন্দর

0
68
প্রিন্ট

পবিত্র ঈদুল ফিতরের টানা ছুটিতে চট্টগ্রাম বন্দরে ভয়াবহ কনটেইনার ও জাহাজ জট দেখা দিয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে জেটিতে এবং বহির্নোঙরে ৫০ থেকে ৭০টি জাহাজের অবস্থান থাকলেও বর্তমানে রয়েছে ৮৭টি।

ঈদের টানা ছুটিতে চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য খালাস কমে যাওয়ায় কন্টেইনার জটের সৃষ্টি হয়। তার উপর আবার প্রভাব পড়েছে বন্দরে জাহাজের অবস্থানকালীন সময়। আগে প্রতিটি জাহাজ দু’ থেকে তিন দিনের মধ্যে পণ্য খালাস করে বন্দর ত্যাগ করলেও এখন বহির্নোঙরেই থাকতে হচ্ছে ৫ থেকে ৭ দিন।

বন্দর সূত্র জানায়, ঈদের আগের এবং পরের তিনদিন মহাসড়কে পণ্যবাহী যানচলাচল এবং অধিকাংশ কারখানায় উৎপাদন বন্ধ ছিল। আমদানিকারকরা এ জন্য পণ্য ডেলিভারি নিতে অনাগ্রহী হওয়ায় এ জট সৃষ্টি হয়। এ কারণে গত রোববার (৯ জুন) পর্যন্ত বন্দরের বিভিন্ন ইয়ার্ডে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত প্রায় ৪ হাজার কনটেইনার জমে যায়।

বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫ হাজার কনটেইনার নামানো হচ্ছে। আর ডেলিভারি হচ্ছে ৪ হাজারের মত। এতে কনটেইনার জট আরও বেড়েই চলছে।

এদিকে গতকাল (১১ জুন) এক বিবৃতিতে কনটেইনার জট কমাতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সংগঠন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (সিসিসিআই) সভাপতি খলিলুর রহমান।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘চট্টগ্রাম বন্দরে ধারণ ক্ষমতার বাইরে প্রায় ৪ হাজার কন্টেইনার জমে গেছে- এমন খবরে ব্যবসায়ী মহলে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বেড়েছে। স্বাভাবিকভাবে আমদানি পণ্যের চালান সময় মতো ডেলিভারি না হলে বাজারে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। সেই সঙ্গে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি, দেশীয় শিল্প উৎপাদনে ব্যাঘাত সৃষ্টি হলে রফতানির ক্ষেত্রেও এর মারাত্মক ক্ষতিকারক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে পোশাক শিল্পের শিপমেন্ট বিঘ্নিত হলে বিদেশি ক্রেতারা অর্ডার বাতিলও করতে পারে। এর ফলে রফতানিমুখী পোশাক শিল্পের মালিকগণ ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।’

জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দরের ধারণ ক্ষমতা ৪৯ হাজার টিইউএস। রোববার (৯ জুন) পর্যন্ত বন্দরে কনটেইনার ছিল ৪২ হাজার ৪২৫ টিইউএস। যদিও ইয়ার্ডে ক্রেনসহ কনটেইনারবাহী বিভিন্ন যান চলাচলের সুবিধার্থে ৩০ শতাংশ জায়গা খালি রাখতে হয়।

ঈদুল ফিতরের ৯ দিনের ছুটিতে চট্টগ্রাম বন্দরে প্রতিদিন জাহাজ থেকে আমদানি পণ্যবোঝাই কনটেইনার খালাস হয়েছে তিন হাজারেরও বেশি। বিপরীতে শনিবার (৮ জুন) পর্যন্ত বন্দরের ইয়ার্ড থেকে কন্টেইনার বের করা হয়েছে প্রতিদিন মাত্র সাড়ে তিনশ’র মতো। তাই প্রায় ৪০ হাজার কনটেইনারের স্তূপ জমে জট তৈরি হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার (১১ জুন) বন্দরের কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হলেও অবস্থার তেমন একটা পরিবর্তন হয়নি।