প্রতিনিয়ত দীর্ঘ হচ্ছে লাশের মিছিল, করোনায় মৃতের সংখ্যা ৮৯৬১

বিশ্বব্যাপী তাণ্ডব চালাচ্ছে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস। গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বব্যাপী করোনায় আক্রান্ত হয়ে নিহত হয়েছেন প্রায় এক হাজার। এর মধ্যে ইতালিতেই মৃত্যু হয়েছে ৪৭৫ জনের। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বব্যাপী ২০ হাজার ৮৩৬ জন নতুন করে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৯৬১ জন। অপরদিকে ৮৫ হাজার ৬৭৩ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বিশ্বে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দুই লাখ ১৯ হাজার ৬৭ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বব্যাপী মৃত্যু হয়েছে ৯৮৩ জনের। এদের মধ্যে ইতালিতে নিহত হয়েছেন ৪৭৫, চীনে ৮, ইরানে ১৪৭, স্পেনে ১০৫, যুক্তরাষ্ট্রে ৪৪, ফ্রান্সে ৮৯, দক্ষিণ কোরিয়ায় ১০, যুক্তরাজ্যে ৩৩, নেদারল্যান্ডসে ১৫, সুইজারল্যান্ডে ৬, ইন্দোনেশিয়া ১২, বেলজিয়ামে ৪ জন। এছাড়া, নরওয়ে, ব্রাজিল, ফিলিপাইন, স্যান ম্যারিনোতে ৩ জন করে এবং জার্মানি, সুইডেন, পাকিস্তান, আলজেরিয়ায় ২ জন করে নিহত হয়েছেন। বাংলাদেশ, কোস্টারিকা, আলবেনিয়া, মলদোভা, ডোমিনিক্যান রিপাবলিক, বুরকিনা ফাসো, জ্যামাইকা, কিউবা, ইরাক, ইকুয়েডর, তুরস্ক, লুক্সেমবার্গ, পর্তুগাল অস্ট্রেলিয়া, কানাডায় একজন করে মৃত্যুবরণ করেছেন।

চীনের উহান থেকে বিস্তার শুরু করে গত আড়াই মাসে বিশ্বের ১৬৫টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯)। চীনে করোনার প্রভাব কিছুটা কমলেও বিশ্বের অন্য কয়েকটি দেশে মহামারি রূপ নিয়েছে।

এই ভাইরাসে শুধুমাত্র চীনের মূল ভূখণ্ডেই আক্রান্ত হয়েছেন ৮০ হাজার ৯২৮ জন। আর মারা গেছেন ৩ হাজার ২৪৫ জন। তবে এখন চীনে এই হার উল্লেখযোগ্য হারে কমে এসেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে করোনাভাইরাসে নতুন করে কেউই আক্রান্ত হয়নি বলে জানিয়েছে চীন। দেশটি জানিয়েছে, বুধবারও ৩৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে তবে তারা কেউই চীনের ভেতরের নয়, তারা সবাই চীনে অন্য দেশ থেকে প্রবেশ করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে নিহত হয়েছেন ৮ জন।

চীনের বাইরে ইতালিতে ভয়াবহ তাণ্ডব চালাচ্ছে করোনাভাইরাস। সেখানে এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ৩৫ হাজার ৭১৩ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ২৯৭৮ জনের। ইতালির পরেই অবস্থান করছে ইরান। ইরানে এখন পর্যন্ত ১৭ হাজার ৩৬১ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন এবং মারা গেছেন ১১৩৫ জন।

স্পেনে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ২৯৪৩ জন এবং মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪৭৬৯ জন। এছাড়া একদিনে নিহত হয়েছেন ১০৫ এবং মোট মৃতের সংখ্যা ৬৩৮ জন। এছাড়া জার্মানিতে গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছেন ২৯৬০ জন। এ নিয়ে দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২৩২৭ জন এবং মৃতের সংখ্যা ২৮ জন।

২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। নিউমোনিয়ার মত লক্ষণ নিয়ে নতুন এ রোগ ছড়াতে দেখে চীনা কর্তৃপক্ষ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে সতর্ক করে। এরপর ১১ জানুয়ারি প্রথম একজনের মৃত্যু হয়। ঠিক কীভাবে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরু হয়েছিল- সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত নন বিশেষজ্ঞরা। তবে ধারণা করা হচ্ছে, উহানের একটি সি ফুড মার্কেটে কোনো প্রাণী থেকে এ ভাইরাস প্রথম মানুষের দেহে আসে। তারপর মানুষ থেকে ছড়াতে থাকে মানুষে।

করোনাভাইরাস মূলত শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণ ঘটায়। এর লক্ষণ শুরু হয় জ্বর দিয়ে, সঙ্গে থাকতে পারে সর্দি, শুকনো কাশি, মাথাব্যথা, গলাব্যথা ও শরীর ব্যথা। সপ্তাহখানেকের মধ্যে দেখা দিতে পারে শ্বাসকষ্ট। উপসর্গগুলো হয় অনেকটা নিউমোনিয়ার মত। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো হলে এ রোগ কিছুদিন পর এমনিতেই সেরে যেতে পারে। তবে ডায়াবেটিস, কিডনি, হৃদযন্ত্র বা ফুসফুসের পুরোনো রোগীদের ক্ষেত্রে ডেকে আনতে পারে মৃত্যু।

image_printপ্রিন্ট করুন
শেয়ার করুনঃ